অতিবৃষ্টি-বন্যার প্রভাবে মাঠেই নষ্ট ২৩১ কোটি টাকার সবজি

এ মাসের শুরুর দিকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের অনেকগুলো জেলায় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যাপকভাবে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৪৭৮ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে, ২৩১ কোটি টাকার শুধু সবজিই নষ্ট হয়েছে। এর প্রভাব এখন বাজারে স্পষ্ট, ৮০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় জুলাইয়ের ৬ তারিখ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত কৃষিতে এ অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাব মূল্যায়ন করেছে। এতে বলা হয়েছে ৪৭৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ সবজিতে ক্ষতি। দেশের মোট ৪৩টি জেলায় এ ক্ষতির প্রভাব রয়েছে, যেখানে চাষ হচ্ছে ৮ লাখ ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। ২৪ হাজার ১৩৮ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি রয়েছে ওপরের দিকে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে জমিগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে তাতে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭২ টন ফসল উৎপাদিত হতো। শাক-সবজির উৎপাদন নষ্ট হয়েছে ৮৭ হাজার ৯৬৭ টন। সব মিলে এ বন্যায় ফসল হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬০ জন কৃষক। 

জানা গেছে, সবজি ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের তালিকায় রয়েছে আউশ ধান, আমন বীজতলা, আদা, মরিচ, হলুদ, পেঁপে, তরমুজ, চীনাবাদাম, পাট, কলা, আখ, খরমুজ, ভুট্টা ও পান। মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে ১২ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছিল আউশ ধান এবং ১ হাজার ৭৪৬ হেক্টরের আমন বীজতলা। এ দুই প্রকারে নষ্ট হয়েছে ১৮৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মরিচ, ২৩ কোটি টাকার আদা, সাড়ে ৯ কোটি টাকার হলুদ নষ্ট হয়েছে। ফলের মধ্যে বড় ক্ষতি হয়েছে পেঁপের। প্রায় ২ কোটি টাকার পেঁপেসহ অন্য ফল মিলে ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন  করে বীজতলা তৈরি ও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের বীজ-সারের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। বন্যা পরবর্তী সময়ে সবজিসহ বেশ কিছু কাঁচা পণ্যের দাম বেড়েছে। ৪০ থেকে ৫০ টাকা মূল্যের সবজি এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া সবজিগুলো এখন কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ টাকা কেজি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলায় সরকারি সহায়তায় বীজ ও সার দেওয়া হচ্ছে। অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সার ও বীজ দেওয়া হচ্ছে। যাদের আমনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ৬৩ হাজার কৃষককে নাবি জাতের আমন বীজ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য হঠাৎ তৈরি হওয়া এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।