শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে ২৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই গৃহবধুর স্বামীকে বেঁধে রেখে সোমবার গভীর রাতে দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসীর সহায়তায় পুলিশ তাকে মঙ্গলবার ভোর রাতে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আর ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই গৃহবধুর স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
নড়িয়া থানা সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামের ২৫ বছর বয়সি এক গৃহবধুর স্বামীর সাথে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির মাদক বিক্রির ঘটনা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে ওই ব্যক্তিরা সোমবার রাতে ওই গৃহবধুর স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে নড়িয়া উপজেলার আচুরা নামক এলাকার একটি নির্জন স্থানে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। তারপর ওই ব্যক্তিরা ওই নারীর স্বামীকে দিয়ে তার স্ত্রীকে ফোন করে সেখানে ডেকে আনেন। এরপর গভির রাতে ওই নারীকে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। ওই নারীর চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা সেখানে ছুটে যান।
স্থানীয়রা ঘটনাটি জরুরী সেবার নম্বর ৯৯৯ ফোন করে পুলিশকে জানায়। নড়িয়া থানার পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় ভোর রাতে অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আচুড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন রাব্বি (২৮),হযরত আলী খন্দকার (৪২) ও ইমন খন্দকার (২৬)। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নারীর স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, গতকাল রাতে কয়েক ব্যক্তি আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পাশের একটি গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে জিম্মি করে। এরপর রাত দশটার দিকে আমাকে ফোন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সেখানে যেতে বলেন। গিয়ে দেখি আমার স্বামীকে একটা গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। আরেকটি গাছের আড়ালে নিয়ে আমার মুখ চেপে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে আমাকে। তাদের থেকে বাঁচার জন্য অনেক কাকুতি মিনতি করেছি,তাদের পায়ে ধরেছি। কিন্তু কেউ কোন কথা শুনেনি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার বলেন, ধর্ষণের শিকার এক নারীকে আজ ভোর রাতের দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। ধর্ষণের বিষয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভেজানা সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, গ্রামবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ওই নারীর দেয়া তথ্য মতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নারীর স্বামীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি ওই নারীর স্বামীর সাথে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক বিক্রির কোন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। পুলিশ তদন্ত করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।