বৃষ্টিসঙ্গী রেইনকোট

বর্ষাকালে নিজেকে ভেজা থেকে সুরক্ষিত রাখার কার্যকর উপায়ের একটি হলো রেইনকোট। ইতিহাস বলছে, ১৮২৩ সালে স্কটিশ রসায়নবিদ চার্লস ম্যাকিন্টশ জলরোধী কাপড় তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তার নাম থেকেই ‘ম্যাকিন্টশ’ বা ‘ম্যাক’ রেইনকোটের পরিচিতি। এরপর সময়ের সঙ্গে নকশা ও উপকরণে নানা পরিবর্তন এসে রেইনকোট হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের রেইনকোট পাওয়া যায়। ফুল-লেংথ রেইনকোট, পনচো, টু-পিস রেইনসুট, ট্রেঞ্চ-স্টাইল রেইনকোট, শিশুদের রঙিন রেইনকোট এবং মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিশেষ হেভি-ডিউটি রেইনকোট বেশ জনপ্রিয়। আধুনিক রেইনকোট তৈরিতে পলিয়েস্টার, নাইলন ও পিভিসি-প্রলেপযুক্ত পানিরোধী কাপড় ব্যবহার করা হয়। অনেক মডেলে হুড, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, হালকা ওজন, প্রতিফলক স্ট্রিপ এবং সহজে ভাঁজ করে বহনের সুবিধাও থাকে।

ছাতার তুলনায় রেইনকোট ব্যবহারের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে।  দুই হাতই মুক্ত রাখে, ফলে মোটরসাইকেল বা সাইকেল চালানো, ব্যাগ বহন কিংবা হাঁটাচলায় কোনো অসুবিধা হয় না। প্রবল বাতাসেও ছাতার মতো উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না এবং শরীরের বড় অংশকে বৃষ্টির পানি থেকে সুরক্ষিত রাখে। তাই কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী কিংবা ভ্রমণপ্রিয়দের কাছে রেইনকোট এখন শুধু প্রয়োজনীয় নয়, বরং বর্ষার ফ্যাশনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।