শিশুর স্কুল শুরুর আগে

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

শিশুর শারীরিক মানসিক নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায়, আর কী আচরণ করা যায় না তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন শ্যামল আতিক

ভর্তির আগে শিশুকে স্কুল সম্পর্কে ইতিবাচক কিছু গল্প বলুন। এ ধরনের গল্প শিশুকে স্কুলের ব্যাপারে আগ্রহী করে গড়ে তুলবে। স্কুলপূর্ব সময়ে মায়ের কাছ থেকে সংখ্যা গণনা, রঙ এবং বর্ণমালার প্রাথমিক শিক্ষা পেলে শিশুর পরবর্তী মেধাবিকাশের পথ প্রশস্ত হয়। শেখানোর এই কাজটি অবশ্যই খেলাচ্ছলে করতে হবে, কোনোভাবেই জোর করা যাবে না।

স্কুলে ভর্তির আগেই শিশুর চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চোখে কোনো ত্রুটি থাকলে তা শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে, দ্রুত সারিয়ে তোলা সম্ভব। শিশুকে এমন স্কুলে ভর্তি করবেন যেখানে পড়াশোনার চাপ কম, খেলাধুলার সুযোগ বেশি এবং শিষ্টাচার-নৈতিকতা শেখানো হয়। অবশ্য স্কুলের বেতন, বাসা থেকে দূরত্ব এবং সার্বিক পরিবেশ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন।  আপনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হলে শিশুকে এমন স্কুলে ভর্তি করবেন না, যেখানে সে বিব্রত হতে পারে।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক, বাক-প্রতিবন্ধী, অন্ধ ইত্যাদি) শিশুদের বিশেষ স্কুলেই ভর্তি করানো ভালো। কারণ এই শিশুদের পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের প্রয়োজন হয়। গাদা গাদা বই আর অতিরিক্ত হোমওয়ার্কের চাপে শিশুকে অতিষ্ঠ করবেন না। বাস্তবতা হচ্ছে এর ফলে পড়াশোনার প্রতি শিশুর বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। 

প্রাইমারি পর্যায়ে অন্তত একটি ক্লাসে ছেলেমেয়ে, ধর্ম, বর্ণ এবং বয়সের বৈচিত্র্য থাকবে। যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি ও বয়সের শিশুরা এক সঙ্গে ক্লাস করবে। এটা ছবি আঁকা বা যেকোনো সহ-শিক্ষামূলক ক্লাস হতে পারে। ক্লাসে যে শিশুটি সবচেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ, তাকে পুরস্কৃত করা যেতে পারে। শিশুদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে তাদের দিয়ে সকালের সমাবেশে শৃঙ্খলা, ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বিশেষ দিবসে অনুষ্ঠান আয়োজন ইত্যাদি কাজ করা যেতে পারে।

স্কুলে পড়াশোনায় যারা ভালো তাদের দিয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের পড়ানোর একটি সুযোগ রাখা যেতে পারে। এতে দুপক্ষই লাভবান হবে। মাসে অন্তত একদিন শিশুকে পড়াশোনার চাপ থেকে মুক্ত রাখুন। ঐদিন তাকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন। এতে পড়াশোনাজনিত মানসিক চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। শিক্ষকের আচরণে ভুল থাকলে, তা নিয়ে শিশুর সামনে খুব বেশি উচ্চবাচ্য করবেন না। এর ফলে শিশু ঐ শিক্ষককে সম্মান করতে শিখবে না। শিশুর স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। এতে শিশুর পড়াশোনাসহ অন্যান্য অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

শিক্ষকদের অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা মনস্তত্ত্ব এবং প্যারেন্টিং বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে। এর ফলে শিশুদের মানসিক সমস্যা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভবপর হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত