ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চমক ধরে রেখেছিল বিএনপি। এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরেও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হতে পারে। রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র বলছে, মর্যাদাপূর্ণ এ পদের জন্য দলের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও বিশ্বস্ত নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও কিছু মহলে এসেছে।
গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আগামী ১ আগস্ট রাতে গুলশানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন তারেক রহমান।
দলীয় নেতাদের মতে, আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ-সব ক্ষেত্রেই মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে। তবে তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মহাসচিব ও সংসদ সদস্যের পদ ছাড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও উপনির্বাচন হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ বা প্রশাসন থেকে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পাওয়ার পর কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ এখনো নির্ধারণ না হলেও কমিশন প্রস্তুত রয়েছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন হবে না। আগামী সেপ্টেম্বরে নিয়মিত অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচনায় একাধিক নাম থাকলেও মহাসচিবকে ঘিরেই বেশি আলোচনা হচ্ছে। তবে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, আপাতত দলের বাইরে থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনা কম।