ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ৯ প্রস্তাব দিল জামায়াত

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কমিশনের সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক চাপের ফল বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের প্রতিনিধি দল ৯ দফা প্রস্তাবসংবলিত একটি চিঠি ইসির কাছে জমা দেয়। পরে সাংবাদিকদের এসব বিষয়ে কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দিলেও কমিশন সেই ক্ষমতা স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক চাপের প্রভাব স্পষ্ট বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সরোয়ার আলমের গেজেট প্রকাশ ও শপথের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার আগেই দ্রুত গেজেট জারি ও শপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা কমিশনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে শামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানায় জামায়াত। দলটির দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের সাবেক নেতাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ভবিষ্যৎ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বৈঠকে ইসির কর্মকর্তারা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না বলে জানান। তবে জামায়াতের দাবি, কমিশন চাইলে এ ধরনের নিয়োগ গ্রহণ না-ও করতে পারত।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশেরও বিরোধিতা করে দলটি। জামায়াতের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার বিষয়েও কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত। দলটির দাবি, নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার ইসির হলেও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। কমিশনকে নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যদের ব্যক্তি পরিচয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রার্থিতা অযোগ্য ঘোষণা এবং নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানায় জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কয়েকটি বিষয়ও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। দল থেকে বহিষ্কৃত এক সংসদ সদস্যের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না, সেটি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়।

এ সময় যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও তাঁর পরিবারকে হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার না করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত