চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের চন্দনাইশে তেলবাহী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিশুসন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন পিতা মোরশেদুল আলম (২৫)। এ ঘটনায় তার এক পায়ের গোড়ালি, অন্য পায়ের পাতা ও বাম হাতের পাঁচটি আঙুল কেটে গেছে। এছাড়া মাথায়ও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোরশেদুল আলম সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের সিরাজ মাস্টারের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে মোরশেদুল আলম তার স্ত্রী ও দুই বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে বেড়াতে আসেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন স্টেশনের দিকে আসছিল। শিশুটি অসাবধানতাবশত রেললাইনে উঠে যায়।
ট্রেনটি শিশুটির কাছাকাছি চলে এলে বিষয়টি দেখতে পান মোরশেদুল আলম। তিনি শিশুকে বাঁচাতে দ্রুত লাইনে ঝাঁপ দেন। এতে শিশুটি রক্ষা পেলেও মোরশেদুল আলম ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েন। এতে তার এক পায়ের গোড়ালি, অন্য পায়ের পাতা ও বাম হাতের পাঁচটি আঙুল কেটে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে।
এ সময় তার স্ত্রী চিৎকার শুরু করলে স্টেশনে বেড়াতে আসা লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রকিবুল হাসান মারুফ বলেন, ‘ট্রেনে কাটা পড়ে আহত মোরশেদুল আলমের এক পায়ের গোড়ালি, অন্য পায়ের পাতা ও বাম হাতের পাঁচটি আঙুল কেটে গেছে। এছাড়া মাথায়ও আঘাত পেয়েছেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইকবাল হোসেন বলেন, তেলবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। স্বজনরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। সামান্য অসতর্কতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রেনে ভ্রমণের সময় বা রেলপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। বিষয়টি চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।’