আম্মারের বিচার চায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক রাকসু বর্জন সাংবাদিকদের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিচার চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তাদের বিরুদ্ধে এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগে গতকাল বুধবার উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এতে গত সোমবারের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। এদিকে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের হুমকির প্রতিবাদে রাকসু বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিপি জাহিদকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার রাকসু জিএস আম্মার ও শিবিরের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেন। প্রক্টর অফিস, রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মারধর এবং অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে পুনরায় মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোনো ছাত্রসংগঠন বা ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে ‘মব জাস্টিস’ করা আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচনের পর থেকে জিএস আম্মার ও তার সহযোগীরা বারবার এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকা-ে জড়িয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিচার করা জুলাইয়ের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। অতীতে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের, কোনো ছাত্রসংগঠন বা রাকসুর নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এদিকে হামলার শিকার ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস ও সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাকসুকে বয়কটের ঘোষণা সাংবাদিকদের : রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সাংবাদিকদের হুমকির প্রতিবাদে রাকসুর সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা। গত বুধবার বিকেলে রাবি প্রেস ক্লাব, রাবি সাংবাদিক সমিতি ও রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি এক প্রতিবাদলিপিতে এ ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলনে রাকসু ভিপি জাহিদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ট্যাগিং দেওয়াসহ হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদলিপি দিতে কিংবা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া ও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

এ অবস্থায় ভিপি জাহিদ নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর সব ধরনের কর্মকা-ের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এদিকে একই ঘটনায় গতকাল পৃথক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতেই লাইব্রেরিতে শিবিরের হামলা : ছাত্রদল

রাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সংঘটিত ঘটনাকে ‘জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নষ্টের পরিকল্পিত চেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে এর জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে ‘মব’ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রেমঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও রাকসুর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাইব্রেরিতে হামলার প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, যার হাতে কলম তোলার কথা ছিল এবং এক বুক আশা নিয়ে যাকে জিএস পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল, সেই মানুষটি বেলচা দিয়ে মানুষকে লাঞ্ছিত করেছে। অন্যদিকে, আমাদের ভিপি সাহেব সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।