মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঘুমানোর আগে কয়েকটি বিশেষ আমল নিয়মিত করতেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করা। ছোট এই আমলটি আল্লাহর একত্বের ঘোষণা, তার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা এবং নবীজির অনুসৃত একটি বরকতময় সুন্নত।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বিছানায় যাওয়ার প্রাক্কালে সুরা ইখ্লাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে দুই হাত একত্র করে হাতে ফুঁ দিয়ে যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে আরম্ভ করে তার দেহের সম্মুখ ভাগের ওপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার এরূপ করতেন।’ (সহিহ বুখারি ৫০১৭)
এই তিনটি সুরার মধ্যে রয়েছে গভীর শিক্ষা। সুরা ইখলাস আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করে। এতে বলা হয়েছে, আল্লাহ এক, তিনি অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি। তার সমতুল্য কেউ নেই। সুরা ফালাকে মানুষ সব ধরনের বাহ্যিক অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে। আর সুরা নাসে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অশুভ প্রভাব থেকে একমাত্র আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাই এই তিন সুরা একজন মুমিনের আকিদা, নিরাপত্তা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতাকে একসঙ্গে শক্তিশালী করে।
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ অবস্থাতেও এই আমল ছেড়ে দেননি। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) অসুস্থ হলেও এই তিন সুরা পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দিতেন। আর শেষ অসুস্থতার সময় আমি তার জন্য এই তিন সুরা পড়ে তার হাত দিয়ে তার শরীরে মাসেহ করতাম। কারণ তার হাত আমার হাতের চেয়ে অধিক বরকতময় ছিল। (সহিহ বুখারি ৫৭৩৫)
আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় ঘুমানোর আগে নানা কাজে ব্যস্ত থাকি। অথচ মাত্র কয়েক মুহূর্ত সময় ব্যয় করে এই তিনটি সুরা পাঠ করা নবীজি (সা.)-এর একটি নিয়মিত সুন্নত। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। অর্থ বুঝে, আন্তরিকতার সঙ্গে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে এই আমল করলে একজন মুমিন সুন্নতের অনুসরণ, আল্লাহর স্মরণ এবং তার হেফাজত লাভের আশা করতে পারে।