সিলেটেও এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

সিলেটের গোলাপগঞ্জেও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে গেছে। হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন এনসিপির স্থানীয় নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জ পৌর অডিটরিয়ামে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে বের হয়ে যাওয়ার পথে চৌমুহনী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি মো. ছবেদ আলী জানান, এনসিপি নেতাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর পাঁচমাইল এলাকায় খেতে গেলে সেখানেও তাদের গাড়িবহরে হামলা হয়।

সন্ত্রাস মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, হবিগঞ্জ ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহর ও নেতাদের ওপর হামলা হয়েছে। আবার দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্র আবার জাতির সামনে উন্মেচিত হচ্ছে। সরকার সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে, জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে। গতকাল দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের কিছু আগে গোলাপগঞ্জে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা গোলাপগঞ্জ যাব, আমরা দাঁড়াব, দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের। আমরা বিচার ও সংস্কারের দাবি থেকে এক চুলও সরে যাব না। আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।’ এ সময় নিজের কথা বলাকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে নীরব থাকার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, এখন থেকে আর কোনো কথা বলবেন না; বরং দেখবেন পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে তারেক রহমানের গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া হামলা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। সিলেটের গোলাপগঞ্জে হামলার পর গতকাল বিকালে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমানের গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া, স্থানীয় বিএনপির গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া তাদের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করতে পারে না। আমাদের ওপর গোপালগঞ্জে হামলা হয়েছে এরপর পাঁচমাইল বাজারে খেতে গেলে সেখানেও বিএনপির সন্ত্রাসীরা গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তাদের কথা হলো বাংলাদেশে আবার শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচার কায়েম করবে, আর কোনো দলকে দাঁড়াতে  দেবে না। এটা যদি হয়, বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে।

এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য শিব্বির আহমদ বলেন, ‘এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু ও আতিকুর রহমান মোজাহিদের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সাত শহীদ পরিবারের সদস্যদের বহন করা গাড়িও আক্রান্ত হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতারা মতবিনিময় সভা শেষে বের হওয়ার সময় একদল লোক তাদের উদ্দেশে ‘ভুয়া, ভুয়া’ সেøাগান দিতে থাকে। স্থানীয় চৌমুহনী এলাকায় এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি ছবেদ আলী বলেন, অনুষ্ঠান শেষ করে বের হয়ে যাওয়ার সময় সারজিস আলমের গাড়িতে দূর থেকে ইট ছুড়লে গ্লাস ভেঙে যায়। তারা অনুষ্ঠান শেষ করে সিলেটের দিকে যাচ্ছিলেন।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী হামলা চালায়নি। এনসিপি নেতারা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনো কথা বললেও বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া ছিল। এনসিপি নেতারা জুলাই আন্দোলনে নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন, কিন্তু আহতদের কারও সঙ্গে দেখা করেননি, এটা থেকেই ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়িবহর নিয়ে কানাইঘাটের পথে যাত্রা করেন। এনসিপির পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী বিকেলে কানাইঘাটে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশে অংশ নেন তারা। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতেও হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার পর এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে পৌঁছান।

কুড়িগ্রামে মিছিলে হামলা : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে ছাত্রশক্তির ১০ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে সংগঠনটি। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মান্নান মুকুল জানান, এনসিপির মিছিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা অংশ নেন। এ সময় ছাত্রদলকর্মী মমিনুল যাওয়ার পথে এনসিপির কার্যালয়ের সামনে হামলার শিকার হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীরা এনসিপির হয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।