তিন রঙের  হ্রদ

আগ্নেয়গিরির গহ্বরে তিনটি হ্রদ। বছরের বিভিন্ন সময় বদলে যায় পানির রঙ। ইন্দোনেশিয়ার ‘ফ্লোরেস’ দ্বীপে অবস্থিত, মাউন্ট  কেলিমুতু আগ্নেয়গিরির চূড়ার তিনটি জ¦ালামুখ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৬৩৯ মিটার উঁচুতে হ্রদটি। পানির নিচের ফাটল দিয়ে নির্গত আগ্নেয় গ্যাস ও খনিজের মিথস্ক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন হয়। স্থানীয় ‘লিও’ উপজাতির মানুষ,  হ্রদগুলোকে পবিত্র মনে করেন। তাদের বিশ্বাস, মৃত ব্যক্তির আত্মা হ্রদগুলোতে আশ্রয় নেয়। ‘তিভু আতা বুপু’কে বৃদ্ধ মানুষের হ্রদ বলে। যার পানি সাধারণত নীল বা কালো রঙের। ‘তিভু কোও ফাই নুওয়া মুুরি’ হচ্ছে,  যুবক-যুবতির হ্রদ। এর পানি সবুজ। আর ‘তিভু আতা পলো’কে শীতল বা জাদুকরী হ্রদ বলে যার পানি লাল বা গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন পানির রঙ পরিবর্তনের পেছনে অলৌকিক ঘটনা নেই। এটি মূলত হ্রদের তলদেশে থাকা আগ্নেয়গিরির গ্যাস এবং পানির খনিজ উপাদানগুলোর রাসায়নিক বিক্রিয়া। পানির ক্ষারীয় মাত্রা এবং অক্সিজেনের পরিমাণের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে হ্রদগুলো, প্রতিনিয়ত রঙ পরিবর্তন করছে। বিজ্ঞানীরা রঙ পরিবর্তনের সঠিক কারণ খুঁজে পাননি। জানেন না কখন,  কোন হ্রদের রঙ কী হবে? এই অনিশ্চয়তাই কেলিমুটুর রহস্যকে বাড়িয়েছে।  স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ নিয়ে নানা কাহিনি। অনেকে বলেন, হ্রদগুলোর রঙের পরিবর্তন ভবিষ্যত কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দেয়। রহস্য, বিজ্ঞান, লোককাহিনি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য সমন্বয় কেলিমুটু। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত রঙ বদলানো হ্রদ, পৃথিবীর কম জায়গায় দেখা যায়।