সম্ভাবনাময় প্যারা স্পোর্টস

ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনে ‘প্যারা স্পোর্টস’ খুবই সম্ভাবনাময় একটি নাম। ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য পদক জয়ের ক্ষেত্র হতে পারে। দেশের শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রা দেশের বাইরে বেশ কিছু সাফল্যে অর্জনে তা প্রমাণও করেছেন। বিশেষ করে, এশিয়ান ইউথ প্যারা গেমস এ ৩টি স্বর্ণ ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক জয় এবং জাপান প্যারা ব্যাডমিন্টনে ব্রোঞ্জ পদক জয় একটা বিরাট অর্জন। ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমে প্যারা স্পোর্টসে বা ন্যাশনাল প্যারালিম্পিকের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মেলে ধরতে নানা পরিকল্পনা করছি। বিশেষ করে নির্বাচিত নতুন কমিটি চেষ্টা করবে নতুন পরিকল্পনা করে প্যারা অ্যাথলেটদের মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের প্রতিটা প্রান্ত থেকে সেরা অ্যাথলেট বাছাই করে দেশের পতাকা বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে। এ জন্য সবার আগে নিজস্ব একটি ক্রীড়া অবকাঠামো প্রয়োজন। আমরা একটি প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স পেলে প্রোপার ট্রেনিং, প্র্যাকটিস ও কম্পিটিশন করার জন্য ভেন্যু প্রাপ্তি সাপেক্ষে অপেক্ষা করতে হতো না। প্যারা স্পোর্টস এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।

বাংলাদেশের প্যারা স্পোর্টসকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের (এনপিসি বাংলাদেশ) নতুন মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল। তার লক্ষ্য, শুধু বড় কোনো প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে নয়, বরং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান প্যারা অ্যাথলেট খুঁজে বের করে দীর্ঘ সময়ের পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল বলেন, ‘যারা আমাকে এই দায়িত্বের জন্য যোগ্য মনে করেছেন, তাদেও প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। নতুন সভাপতি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলামসহ কমিটির সবাইকে নিয়ে আমরা একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করতে চাই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের প্যারা স্পোর্টসকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।’

সামনে আইচি-নাগোয়াতে এশিয়ান প্যারা গেমস। এই আসরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন নতুন মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে পারফর্ম করতে পারেন, সেটিই এখন আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের কোচিং, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বাড়াতে জেলা ও বিভাগ পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। নিয়মিত জাতীয় ক্যাম্প, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও জানান ড. মারুফ।

প্যারা স্পোর্টসের উন্নয়নে অবকাঠামো, অর্থায়ন এবং পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সুযোগকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা চাই। প্যারা স্পোর্টসকে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

নিজের মেয়াদে এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চান ড. মারুফ, যেখানে প্যারা অ্যাথলেটরা ক্যারিয়ার নিয়ে নিশ্চিন্তে এগিয়ে যেতে পারেন। খেলোয়াড়দের সম্মান, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপযোগী করে তোলাই হবে তার অন্যতম লক্ষ্য। এশিয়ান প্যারা গেমস থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে প্যারালিম্পিক সব বড় আসরেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চান এনপিসি বাংলাদেশের নতুন মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল।