গঙ্গা চুক্তি নবায়নের তাগিদ ভারতের সংসদীয় কমিটির

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ৩০ বছর মেয়াদের গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। কোনো বিলম্ব না করে এই চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরু করতে ভারত সরকারকে তাগিদ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।

পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সাম্প্রতিক পানিপ্রবাহের তথ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ আলোচনা শুরু করতে ৩০ জুলাই এ সুপারিশ কথা প্রকাশ করেছে বিরোধী কংগ্রেস দলীয় প্রভাবশালী এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

ভারতীয় ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালে সই হওয়া চুক্তিটির বিষয়ে এ সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ বিষয়ে কমিটির নবম এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষাকে ভারত সরকারকে  কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্টকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না। 

২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা  ‘ক্ষমতা ত্যাগ করে’ দিল্লিতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। 

সংসদীয় কমিটি বলেছে, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি দেশটির দীর্ঘদিনের মানবিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যের প্রতিফলন। যারা গুরুতর সংকট, নির্যাতন বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়েন, তাদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি ভারত বরাবরই অনুসরণ করে এসেছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে বলেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অনুরোধ  প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

শেখ হাসিনাকে ঢাকার একটি আদালত মৃত্যুদ- দেওয়ার পর তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কমিটির চাওয়া এক ব্যাখ্যার জবাবে মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও একটি মৌলিক নীতি কঠোরভাবে মেনে চলা হয় ভারতের ভূখন্ড কোনোভাবেই অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। 

তবে এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি যথাযথ কূটনৈতিক ভারসাম্য ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে পরিচালনার জন্যও কমিটি সুপারিশ করেছে।

কমিটি বলছে, বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়া এবং নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়মিত ভিসানীতি পর্যালোচনা, আবেদনকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয় এবং কনস্যুলার কর্মীদেরও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসাকেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসা সংক্রান্ত।