সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক কে হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা সমীকরণ ও জল্পনা-কল্পনা। আলোচনায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ শনিবার দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। তারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে থেকে কাউকে বেছে নেওয়ার পক্ষে সবাই। এর বাইরে অন্য কেউ গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি পদে যিনি বসবেন তার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভালো সম্পর্ক থাকতে হবে। আমলা অথবা অন্য কারও পক্ষে এ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করা সম্ভব নয়। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলতি বছরের ডিসেম্বরে দলের কাউন্সিল করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও জানান নেতারা।
সূত্র জানায়, বিএনপির নীতিনির্ধারক ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে নতুন রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে দলের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য তালিকায় থাকলেও রাজনৈতিক বিভিন্ন সমীকরণ বিবেচনায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পদে বেশ এগিয়ে আছেন। দেশ এবং প্রবাসের নেতাদের অনেকেই মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চান।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) স্থায়ী কমিটির বৈঠক রয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর প্রথম স্থায়ী কমিটির বৈঠক এটি। স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বৈঠকের এজেন্ডা এখনো পাইনি।’
নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করবেন। তবে এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’
স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর সংবিধান অনুযায়ী সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে তা পূরণের জন্য ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।’
বিএনপি সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রপতির মতো শীর্ষ সাংবিধানিক পদে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে বেছে নেওয়া হতে পারে, যিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করতে পারবেন। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী এবং আইন অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজনের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের নীতিনির্ধারক মহলের চূড়ান্ত সবুজ সিগন্যাল না পাওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নাম নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে আসছেন জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ কোনো নেতাকে চাই। এর বাইরে অন্য কাউকে চাই না। কারণ আগামী দিনে যেকোনো ক্রাইসিস একমাত্র রাজনীতিবিদই ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবেন।’
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনে নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সংসদ অধিবেশনে থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। সংসদ সচিবালয় এ ভোটার তালিকা দেবে, এ জন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।
