ঘরের মাঠে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও এবার সে দেশে গিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার দায় মেটাতে হয়েছে ৭ উইকেটের বড় হার দিয়ে। ত্রিদলীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩০ ওভার ২ বলে মাত্র ৮৯ রানে অলআউট হন জাকির হাসানরা। লক্ষ্য তাড়া মাত্র ১৮ ওভার ৪ বলে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে খেলা হয় মাত্র ৫০ ওভার।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দায়ান গালিমের লেংথ ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে গিয়ে থার্ডম্যানে অঞ্চলে ক্যাচ দেন জাকির (১)। দ্বিতীয় উইকেটে মাহফিজুল ইসলাম রবিন ও শাহদাত হোসেন দিপু জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও সেটা বেশী বড় হয়নি। গালিমের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হন দিপু। ১৬ বলে ৮ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
এরপর বায়ান্দা মাজোলার অতিরিক্ত বাউন্সে স্লিপে ক্যাচ দেন ইফতিখার হোসেন (২)। একপ্রান্ত আগলে রাখলেও রান তুলতে হিমশিম খান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ২৮ বলে মাত্র ২ রান করে কালেব সেলেকারের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। অন্য প্রান্ত ধরে খেলেন রবিন। পরে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন তিনি। তবে আন্দিলে মোগাকানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন বিপ্লব (১১)। পরের বলেই মইন খান স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে আরও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
আশার বাতি হয়ে জ্বলছিলেন রবিন। তবে হাফ সেঞ্চুরির আগে থামতে হয় তাকেও। গালিমের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৭৩ বলে ৪০ রান করেন এই ওপেনার। শেষ দিকে আর কেউই ইনিংস বড় করতে না পারায় শেষ ব্যাটার হিসেবে রাতুল আউট হলে ৮৯ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন দায়ান গালিম। মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকাও। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইকবাল হোসেন ইমনের গুড লেংথের ডেলিভারিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন জেপি কিং। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দেন ড্যানিয়েল স্মিথ। এরপর শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে শর্ট স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন মোদিরি লিথেকোও।
৩৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি স্বাগতিকরা। রিচার্ড সেলেটসোয়ানের অপরাজিত ৩৫ ও ভ্যান বারেনের ১৮ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে রিজওয়ান ২টি এবং ইমন ১টি উইকেট নেন।