হাসিনার ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক ভাওতাবাজি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও অসতর্কতা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তবে তিনি বলেন, স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দলটির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ইশরাক হোসেন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ যত বাড়বে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। তাই এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের প্রাতিষ্ঠানিক পতন ঘটলেও সমাজ, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে তাদের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গৃহযুদ্ধের মতো কোনো চরম পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদী শক্তি বিজয়ী হওয়া ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক ভাওতাবাজি’ বলে মন্তব্য করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারানো দলটি সমর্থকদের আশ্বস্ত করা এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে।

বিগত তিন দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয় রাজনৈতিক সফলতার মানদণ্ড হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, সাংস্কৃতিক প্রভাব, সফট পাওয়ার ও আন্তর্জাতিক লবিং থাকলেও জনগণের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে গণতন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হওয়াই আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং ‘এক ব্যক্তির পূজা’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও দলটির পতন ত্বরান্বিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

‘জুলাই হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’-এই বিষয়ে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) দল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ এবং সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, মাইদুর রহমান রুবেল ও জাকির হোসেন লিটন। শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।