বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ওয়্যারহাউজ সুবিধা নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, তার নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দৃঢ় আস্থা রয়েছে।

সার্জিও গোর বৈঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এই আস্থার নিদর্শনস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ভ্রমণ পরামর্শে একটি ইতিবাচক সংশোধন করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তারা একমত হন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান প্রসঙ্গে বিশেষ দূত মন্তব্য করেন যে, এ খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি জোট গঠন করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ চাইলে এই উদ্যোগের একটি অংশীদার হতে পারে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে বিশেষ দূত রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

বিশেষ দূত পরে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ভালো হয়েছে। কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উন্নত করার সুযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্র এ সম্পর্ককে ‘পরবর্তী ধাপে’ নিতে আগ্রহী।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত গত ৩০ জুলাই থেকে গতকাল ১ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে তার সফর শেষ করেছেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। স্থানীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে জানান, বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন  জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তারা এখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তিন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, রেহান আসিফ আসাদ ও মাহ্দী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ দূতের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।