কুড়িগ্রামে গাঁজা উদ্ধার, গাঁজাচাষি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদকের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, কয়েকটি গাঁজা গাছ উদ্ধার এবং এক গাঁজা চাষিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২ আগস্ট) ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করেন।

পুলিশ জানায়, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দফাদার মোড়সংলগ্ন একটি সরু সেতুর ওপর অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভূরুঙ্গামারী বাজারগামী একটি অটোরিকশায় ধানের ভূষির বস্তার ভেতর থেকে প্রায় ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পরিবহনকারী ব্যক্তি চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।

উদ্ধার করা গাঁজা পরিত্যক্ত আলামত হিসেবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে আদালতে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে মালিকানা শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই দিন দুপুর ১২টার দিকে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফজর আলী শুক্কুর (৫৫)-এর বসতবাড়ির উঠান থেকে দুটি পরিপক্ব গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাঁজা চাষের অভিযোগে ফজর আলী শুক্কুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ছাড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাহাট পুরোনো রেলসেতু ও নবনির্মিত সড়কসেতুর মধ্যবর্তী নদীর তীর থেকে মালিকানাবিহীন আরও দুটি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, মাদক কারবারিরা যেখানেই বা যে কৌশলেই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করুক না কেন, পুলিশ তা উদঘাটনে সক্ষম। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মাদকমুক্ত ভূরুঙ্গামারী গড়ে তোলা সম্ভব।