কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ থাকলেও বন্যাকবলিত মানুষের হাতে তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বানভাসীদের জন্য বরাদ্দ ৩০ মেট্রিক টন জিআর চাল উত্তোলনের পরও গুদামেই পড়ে রয়েছে। বন্যাকবলিত নয়, এমন দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নামে চাল উত্তোলন করে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অবহেলার কারণে জুন মাসের টিসিবির ৪১ হাজারের বেশি উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দ চালও ফেরত গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসে দুই দফা বন্যায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২০টি ওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ২ হাজার ৬৪০ জন মানুষ ক্ষতির শিকার হন। একই সময়ে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হন আরও শতাধিক মানুষ।
বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩ হাজার মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন ২৯ জুন ৩০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়। পরদিন ৩০ জুন এসব চাল ও শুকনো খাবার উত্তোলন করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এসব ত্রাণ বিতরণের কথা থাকলেও মাত্র ৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ৩০ মেট্রিক টন চাল এখনো বিতরণ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বন্যাকবলিত ইউনিয়নের পরিবর্তে বন্যার প্রভাবহীন রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের নামে ১৫ মেট্রিক টন করে মোট ৩০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়। পরে তা গুদামেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
বন্যাকবলিত রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, তার ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ড, বিশেষ করে ফান্দেরচর এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লেও বারবার যোগাযোগ করেও কোনো ত্রাণ পাওয়া যায়নি। পরে শুনেছেন, চাল বরাদ্দ হলেও তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
কেদার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.খ.ম. ওয়াজিদুল কবীর রাশেদ বলেন, বন্যার্তদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও আমরা কোনো চাল পাইনি। শুনেছি অন্য দুই ইউনিয়নের নামে চাল উত্তোলন করে রাখা হয়েছে। উত্তোলনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তা বিতরণ করা হয়নি।
অন্যদিকে রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, আমার ইউনিয়ন কখনো বন্যাকবলিত হয় না। ইউএনওর নির্দেশে বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ ১৫ মেট্রিক টন চাল আমার নামে এবং সন্তোষপুর ইউনিয়নের প্রশাসকের নামে আরও ১৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে গুদামে রাখা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অবহেলার কারণে জুন মাসে উপজেলার ৪১ হাজার ১০২ জন টিসিবি উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ৫ হাজার ৫১০ কেজি চালও ফেরত গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সময়মতো ছাড়পত্রে স্বাক্ষর না করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল উত্তোলন সম্ভব হয়নি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণের আগেই বন্যার পানি নেমে যায়। তাই চাল বিতরণ না করে গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে তা বিতরণ করা হবে। আর বিশেষ কারণে আমার অনুপস্থিতিতে টিসিবির চাল উত্তোলনের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। তবে উপকারভোগীদের অন্যান্য পণ্য বিতরণ করা হয়েছে।
জিদানের 'অভিষেক' ম্যাচের সব টিকিট শেষ এক দিনেই 