দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নাজকা লাইনস দেখানোর সময় একটি পর্যটকবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১১ জন বিদেশী পর্যটক এবং ২ জন ক্রুসহ মোট ১৩ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু পর দেশটির রাজধানী লিমা থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে পিসকো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নাজকার মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি শত শত বছর আগে স্থানীয় আদিবাসীদের তৈরি মরুভূমির বিশাল সব ভূ-চিত্র বা জিওগ্লিফ দেখানোর জন্য পর্যটকদের নিয়ে একটি সাইটসিয়িং ফ্লাইটে বের হয়েছিল।
সাধারণত এই বিশালাকার প্রাণীর প্রতিকৃতিগুলো শুধু বিমান বা ভিউয়িং টাওয়ার থেকেই পুরোপুরি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
পেরুর বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনায় পতিত বিমানটিতে দুই ক্রু সদস্যসহ মোট ১১ জন বিদেশি পর্যটক ছিলেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসোসিয়েশন আন্দিনা জানিয়েছে, নিহত পর্যটকদের মধ্যে দু'জন জার্মানি, দু'জন স্পেন এবং সাতজন ইতালির নাগরিক।
নিকটবর্তী ইকা শহর থেকে ছেড়ে আসা বিমানটি পরিচালনা করছিল পেরুর বিমান সংস্থা ‘অ্যারোডিয়ানা’। বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, তারা গত ১৪ বছর ধরে সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান বিমান দিয়ে নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে পর্যটকদের জন্য এই মনোরম ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। তবে দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে এয়ারোডিয়ানা কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পেরুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিমান দুর্ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।