ঢাকার চারপাশে চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে ওয়াটার বাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকার চারপাশের ১১০ কিলোমিটার নৌপথ ব্যবহার করে শহরের ভেতরের যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় চক্রাকার এই নৌপথে ওয়াটার বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, সভায় ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করা এবং আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে ওয়াটার বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ, নদীর নাব্য ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীতীরে হাঁটার পথের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নদীর তীরে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং নদীর তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। ঢাকার চারপাশে ১১০ কিলোমিটার চক্রাকার নৌপথটি গাবতলী হতে শুরু হয়ে আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, সদরঘাট ও বছিলা হয়ে আবার গাবতলী পর্যন্ত। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সরকার তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে সব সময় থাকবে : বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আন্ডারওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। বাংলাদেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হয় এই এমআইএসটি ম্যাভিরভ দল।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার জন্য দলটির সদস্যদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সব সময় পাশে থাকবে।’ বৈঠকে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদের উদ্ভাবিত আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। রোবটটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এমআইএসটির উদ্ভাবক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চান। তিনি বলেন, তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকার তাদের পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদেরও দেশে ফিরে এ খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।