ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের এজিএস ও শিবিরকর্মী ইব্রাহিম খলিলের কক্ষ থেকে দুই বহিরাগত সমকামীকে আটকের ঘটনায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল রবিবার হল প্রাঙ্গণে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করে শিবির।
জানা গেছে, ওই দিন বিকেলে হলে সমকামী আটকের ইস্যুতে শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিলকে ডেকে নেয় হল প্রশাসন। সে সময় হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জুনায়েদ আবরারের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে ইব্রাহিম খলিলের সিট বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরে সেখানে উপস্থিত শিবিরের নেতাকর্মীরাও পাল্টা সেøাগান দেওয়া শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের এজিএসের রুমে ২ বহিরাগত সমকামীকে আটকের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিল বলেন, তার মায়ের মামাতো ভাই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে কিছু সময় বিশ্রামের উদ্দেশ্যে তার কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি চান। তার সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি হলে ছিলেন না; ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া ঘুরতে গিয়েছিলেন। পরে ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি দাবি করেন, আগে বিষয়টি জানলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতেন।
হামলার বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ : শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের জিএস তৌকির হাসান বলেন, ‘হলের এজিএসের কক্ষে আসা গেস্টদের ভিডিও আরও ৫ দিন আগে করা হয়। তখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। হল প্রভোস্ট ছাত্রদলের চাপে পড়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিস ছাড়াই এজিএসের সিট বাতিল করেছেন। পরে তারা প্রভোস্ট অফিসে প্রবেশ করে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
তিনি বলেন, “আজ (রবিবার) আমরা যখন তদন্ত কমিটির ডাকে প্রভোস্ট অফিসে আসি এবং ছাত্রদল যখন আমাদের ওপর হামলা করে তখন আমাদের এক সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘তারা রাগের মাথায় হামলা করেছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এমন বক্তব্য হতাশাজনক।”
শহীদুল্লাহ্ হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জুনায়েদ আবরার বলেন, ‘আমরা সমকামীদের আশ্রয় দেওয়ায় অভিযুক্ত হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিলের সিট বাতিলের দাবিতে প্রভোস্ট অফিসে যাই। তখন সেখানে উপস্থিত শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের কয়েকজনকে আহত করে।’
শিবিরের বিক্ষোভ : প্রভোস্ট অফিসে হামলার অভিযোগে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে ঢাবি শিবিরের সভাপতি মু. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা সব সময় নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু তারা দফায় দফায় হল সংসদের ওপর হামলা করেছে।’ তিনি প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
যা বলছে প্রশাসন : ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের হাউস টিউটর ড. মো. আনোয়ার হোসাইন ভূইয়া বলেন, ‘আমরা ভেতরে তদন্ত কমিটির বিষয়ে কথা বলছিলাম। তখন বাইরে কী একটা বিষয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে আমরা তাদের দুপক্ষকে বুঝিয়ে ঠান্ডা করি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, ‘হল প্রশাসনের মিটিংয়ে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, এটা এখন প্রশমিত; হাতাহাতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার পরপরই সেখানে প্রক্টরিয়াল টিমের লোক পাঠিয়েছি। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করব।’