ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের টসে নেমে সবাইকে অবাক করে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। প্রথম টেস্টে ৫ উইকেটসহ মোট ৮ উইকেট নেওয়া এবং দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পেসার মোহাম্মদ আব্বাসকে একাদশ থেকে বাদ দিয়ে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় পেসার নাসিম শাহর ছোট ভাই উবাইদ শাহকে।
ধারাবাহিক এবং ফর্মে থাকা আব্বাসকে বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞ উবাইদ শাহ ও মোহাম্মদ আলিকে খেলানোয় ক্রিকেট বিশ্বে তৈরি হয় নানা জল্পনা-চলমান বিতর্ক। তবে টসের সময় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপকে এর পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাবর আজম।
বাবর আজম স্পষ্ট জানান, আব্বাসের কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। মূলত পিচ ও কন্ডিশন বিবেচনাতেই আব্বাসকে বেঞ্চে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোর্ট অব স্পেইনের ধীরগতির উইকেটের কথা চিন্তা করেই টিম ম্যানেজমেন্ট গতি ও স্পিন বৈচিত্র্যে জোর দিতে চেয়েছে।
উইকেটের ধীরগতির কারণে পাকিস্তান দলে অতিরিক্ত স্পিনার হিসেবে সাজিদ খানকে নেওয়া হয় এবং কম গতির আব্বাসের জায়গায় তরুণ পেসার উবাইদ শাহর গতিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করে অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্ট।
তবে পরিসংখ্যান কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। ধীরগতির উইকেটে আব্বাসের রেকর্ড অত্যন্ত চমৎকার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ টেস্টে তিনি মাত্র ১৭.৫৫ গড়ে ২৭টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশেও তিনি সর্বোচ্চ ১০টি উইকেট শিকার করেছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ টেস্টে আব্বাস ২৮টি উইকেট নিয়েছেন মাত্র ২০.৩২ গড়ে।
আব্বাসের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পাওয়া ১৮ বছর বয়সী উবাইদ শাহ (নাসিম শাহর ছোট ভাই) প্রথম দিনে আমির জাঙ্গুকে আউট করে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রথম উইকেটের দেখা পেয়েছেন।
বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় বিঘ্নিত প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৩৯ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস): ২৩৯/৫ (৭৪ ওভার)
জাস্টিস গ্রিভস ৬৪* (১২৫), ব্র্যান্ডন কিং ৪৬ (৫০), রোস্টন চেইস ৩৬* (৭০), শাই হোপ ২৯ (৬৮)
পাকিস্তান বোলিং: মোহাম্মদ আলি: ১৭-৫-৪৯-২, সাজিদ খান: ২২-২-৫৫-১, আলি উসমান: ২৫-৫-৬৪-১, উবাইদ শাহ: ৯-০-৫৬-১