আটকের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে ‘সু চি’

মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রতিনিধির সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকার। গতকাল সোমবার মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, রাজধানী নেপিদোতে মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দ্য বেকে নোবেলজয়ী এই নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বন্দিদশায় থাকা ৮১ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সরকার এই ঘোষণা দিয়েছে।

মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র টেলিগ্রামে বার্তার সঙ্গে চারটি ছবি দিয়েছেন। সেগুলোর দুইটিতে সু চি ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাক পরে বেকের সঙ্গে বৈঠক করছেন, এমনটি দেখা গেছে। যে ঘরটিতে বসে তারা কথা বলছেন সেটি কাঠের প্যানেল দিয়ে মোড়ানো আর সেখানে আসবাবপত্র বলতে কেবল দুটি কাঠের চেয়ার ও একটি ছোট টেবিল রয়েছে। আরেক ছবিতে সু চিকে তার নাম লেখা একটি জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা গেছে। এই ছবিতে তার বাসস্থান বলে মনে হওয়া একটি ঘরের বিরল দৃশ্য পাওয়া গেছে। সেখানে একটি পোশাকের র‌্যাক ও জিনিসপত্র রাখার বাক্স দেখা গেছে। চতুর্থ ছবিটিতে কেকটির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কেকে লেখা রয়েছে ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু ১৯.৬.২০২৬’। বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে বৈঠকের স্থান ও ছবিগুলো কবে তোলা হয়েছে তা যাচাই করতে পারেনি। তবে কি কারণে বেক সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে রয়টার্সের জানানো মন্তব্যের অনুরোধে আইসিআরসি সাড়া দেয়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির এক ভোরে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর পর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে অস্থিরতা চলছে। আটক হওয়ার পর থেকে অং সান সু চি ঠিক কোথায় আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা কেমনÑ সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময়ের মধ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতা বা দূতের সঙ্গে তার প্রকাশ্য কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। গত এপ্রিলের শেষের দিকে সামরিক বাহিনীর সাজানো এক নির্বাচনের মাধ্যমে সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সু চিকে গোপন কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। ধারণা করা হয়Ñ সু চিকে নেপিদোতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সু চির একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাকে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে ইউনিফর্ম পরা দুই অজ্ঞাত পরিচয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ছবিটির সত্যতা নিয়ে দ্রুতই প্রশ্ন ওঠে। এর পরই সু চির ছেলে কিম অ্যারিস আবারও কর্র্তৃপক্ষের প্রতি তার মায়ের জীবিত থাকার প্রমাণ দেখানোর দাবি করেন। মিয়ানমারের বিরোধীদলীয় ছায়া সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ এর মুখপাত্র নে ফোন লে জানিয়েছেন, সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে তারা আইসিআরসির নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায় আছেন। দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতির উসকানি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অং সান সু চিকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে দুটি সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির আওতায় তার সাজা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়।