অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ দল

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে গতকাল প্রথম দিনের অনুশীলনের পর বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য, ‘মনে হচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া, মনে হচ্ছে আমরা যেন বাংলাদেশেই আছি।’ পরের কথায় রহস্য ভাঙলেন তিনি, ‘এখানকার আবহাওয়া আমাদের ফেব্রুয়ারি মাসের মতো। খুব বেশি গরমও না, আবার খুব বেশি শীতও না। অতটা বাতাসও নেই। আগামী কয়েক দিনে মানিয়ে নেওয়ার কাজটা আরও সহজ হবে বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় ডারউইনের আবহাওয়া, কন্ডিশন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামও, ‘আমরা এখানে ভালো সুবিধা পাচ্ছি। প্রস্তুতিটাও ভালো হচ্ছে। প্রথম দিনের অনুশীলন ভালো হয়েছে। এখানে সুবিধা অনেক ভালো। উইকেট, ফিল্ডিং, রানিং, অনুশীলন থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজই আমরা করতে পেরেছি। খুবই ভালো লাগছে।’

সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে কন্ডিশনের কারণে বেশ ভুগতে হয় ক্রিকেটারদের। প্রায় এক মাসের সফরের শেষ দিকে এসেও মানিয়ে নিতে না পারার আফসোস করতে শোনা যায় সফরকারীদের। এবার জিম্বাবুয়ের মতো ভুল করেনি বিসিবি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে ১২ দিন আগে প্রথম টেস্টের ভেন্যু ডারউইনে পৌঁছান দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার। সেখানে গিয়ে একদিন বিশ্রামের পর গতকাল অনুশীলন শুরু করেছেন তারা। তবে মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নয়, স্থানীয় অন্য একটি মাঠে নিজেদের প্রথম দিনের প্রস্তুতি সারেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এখনো মূল মাঠে যেতে পারেননি তারা। অর্থাৎ উইকেটের চরিত্র কেমন হবে, সে সম্পর্কে এখনো ধারণা পায়নি সফরকারী দল। তবু সফরের শুরুর দিকেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জে উৎরে গেছে বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সে দেশে টেস্ট খেলতে গিয়ে প্রথম পরীক্ষায় পাস করেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

যদিও অস্ট্রেলিয়ায় যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে সফরকারীদের। সিঙ্গাপুরে ১৭ ঘণ্টা যাত্রাবিরতি দিয়ে ডারউইনে পৌঁছান তাইজুলরা। মাঝের এই লম্বা বিরতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার, ‘ভ্রমণটা ভালো ছিল। আসার সময় আমরা একটা ট্রানজিট পেয়েছিলাম। ট্রানজিটে আমরা বিশ্রাম নিতে পেরেছি। তো সবকিছু মিলিয়ে ভালো ছিল।’

একই পথ ধরে দ্বিতীয় বহরের ক্রিকেটাররা রবিবার রাতে রওনা করেন। আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা আছে তাদের। এর ২ ঘণ্টা পরই দ্বিতীয় দিনের অনুশীলনে নামবেন মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদরা। তবে ট্রানজিট মিলিয়ে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ভ্রমণ করায় বিশ্রামে থাকবেন লিটন দাস, মুমিনুল হকরা।

এই দলের সঙ্গে দেশ ছাড়ার আগে অস্ট্রেলিয়া মনে রাখার মতো লড়াই উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা শুনিয়ে যান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘আমার মনে হয়, সবাই খুব রোমাঞ্চিত। যাদের সঙ্গে দলের যতটুকু কথা হয়েছে, গেলে আরও ভালোভাবে কথা হবে। সবাই এখানে তাদের ক্যারিয়ারে মনে রাখার মতো কিছু করতে চায়। আমরা জানি যে চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি। অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল। কিন্তু সবাই এমন কিছু করতে চায়, যেটা সারা জীবন মনে রাখতে পারবে, যেটা তাদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হতে পারে। আমার মনে হয়, সবাই খুব ইতিবাচক। জানি কাজটা কঠিন, কিন্তু করতে পারলে সবারই ভালো লাগবে।’

২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে ডারউইনের বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পথে এই সিরিজের ব্যানার চোখে পড়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। সেখানে ভেন্যু, ম্যাচ শুরুর দিনক্ষণও উল্লেখ করা আছে। একে তো শক্তির বিচারে বেশ এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। তার ওপর নিজেদের মাঠে খেলা। অর্থাৎ আসন্ন সিরিজে ফেভারিটের তকমা থাকবে অজিদের গায়েই। তবে মাঠের চ্যালেঞ্জ উতরাতে মরিয়া বাংলাদেশও।