ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপের স্টিয়ারিং কমিটির সভাশেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য সারা দেশে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন খেলোয়াড় তৈরি করা। সে লক্ষ্যেই প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে এমবাপ্পেকে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের তরুণদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।’
সভায় আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি পর্যায়ের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্ত হবে। জানানো হয়, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে ধাপে ধাপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সৃজনশীলতা বিকাশের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে সমান সুযোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমবে এবং একটি সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।
জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মাঠ প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপকে একটি জাতীয় উৎসবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের আদলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সৃজনশীল আয়োজন, টিম সংসহ নানা কর্মসূচি থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের টুর্নামেন্টে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ফাইনাল দুই পর্যায়েই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে এ আয়োজনের যাত্রা শুরু হবে, যাতে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা সমানভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ টুর্নামেন্টের নাম নির্ধারণ করেছেন জানিয়ে মাহদী আমিন জানান, ‘এটি শুধু একটি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সমন্বয়ে একটি অনন্য জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’
প্রতিযোগিতা সফল করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবল দল গঠনের আহ্বান জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। কোনো প্রতিষ্ঠান দল গঠনে ব্যর্থ হলে তাদের এমপিও স্থগিত রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী, ‘কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি একটি ফুটবল দলও গঠন করতে না পারে, তাহলে সেখানে শিক্ষার্থীর সংকট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। দল গঠন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত রাখার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।’
সভায় শিক্ষামন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।