ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার শুরুর কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ছয় মাসে গড়িয়েছে। গত জুনে যুদ্ধবিরতি হলেও, পরে তা ভেস্তে যায় এবং দুই দেশ আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে। নিউ জার্সিতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের গতকাল সোমবার দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কথা জানালেও, কোথায় বৈঠক হবে, এতে কারা অংশ নেবেন; এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। তবে ট্রাম্পের দাবির প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। তবে কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। এদিকে, ট্রাম্প নতুন আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০.৭২ ডলারে নেমে আসে।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কোনো সময়সীমা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই চুক্তি করতে চাই। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। চুক্তি না করে যুদ্ধ করলে বহু মানুষ মারা যায়, আমরা তা চাই না।’ ট্রাম্প দাবি করেন, গত সপ্তাহান্তে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেকোনো দেশের ওপর সবচেয়ে বড় হামলাটি ইরানের বিরুদ্ধে চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। তবে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান কূটনৈতিক সমাধানের অনুরোধ জানানোর পর তিনি সেই হামলা স্থগিত করেন। তবে ইরান দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তেই কেবল এই হামলা বাতিল করা হয়েছে বলে সতর্ক করেন ট্রাম্প। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ও আইনপ্রণেতা হাসান ঘাশঘাভি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘তারা জানে কোনটা মূল বিষয়, কিংবা প্রকৃত অর্থে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। তাই হ্যাঁ, এ বিষয়ে মতবিনিময় চলছে’।
ট্রাম্পের আলোচনা শুরুর দাবির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপাতত কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে, নতুন একটি অস্থায়ী রুট তৈরির বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে। প্রণালিটিতে একটি নতুন ‘অন্তর্বর্তী রুট’ বা নৌপথ তৈরির বিষয়ে বাঘাইয়ের এই মন্তব্যকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান এই প্রণালির ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করছে এবং জাহাজকে সামুদ্রিক সেবা দেওয়ার বিনিময়ে ফি আদায়ের প্রক্রিয়াসহ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও নতুন পথ নির্ধারণের বিষয়ে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছে। প্রস্তাবগুলোর একটি হলো একটি ওমান-ইরান যৌথ কোম্পানি গঠন করা, যা বীমা কোম্পানিগুলোর দেওয়া চড়া মূল্যের সেবা কম খরচে প্রদান করবে এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক শুল্কের (প্রিফারেনশিয়াল ট্যারিফ) ব্যবস্থা রাখবে।
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ‘আমরা এখন এমন একটি করিডোর নিয়ে কথা বলছি যার একটি আসা-যাওয়ার রুট থাকবে, দুই বা তিনটি পৃথক রুট নয়। একটি স্থায়ী রুট নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী রুটটি সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হবে’। যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন কর্র্তৃক নিয়ন্ত্রিত দীর্ঘদিনের ‘ট্রান্সপোর্ট সেপারেশন স্কিম’-এর বিকল্প হিসেবে এই নৌপথটিকে উল্লেখ করেন তিনি। বাঘাই জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে এ সংক্রান্ত মানচিত্রও বিনিময় করা হয়েছে। এ সময় বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ওমানের সঙ্গে এই আলোচনা দ্বিপক্ষীয় এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।