তালাকের কথা শুনেই স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যা

ফারজানা আক্তার রাত্রি বিয়ের পর জানতে পারেন স্বামী নেশাগ্রস্ত। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। তাই পরিবারের সিদ্ধান্তে স্বামী হৃদয় ওরফে শিপনের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান। তবে শিপনের অনুরোধে আবার তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু সংসারে কলহ দেখা দেওয়ায় আবারও তালাক দেওয়ার কথা বলতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শিপন স্ত্রী রাত্রি ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। তবে এই হত্যাকান্ড পরিকল্পিত কি না তা ক্ষতিয়ে দেখছে পুলিশ। গত রবিবার সকালে রাজধানীর কলাবাগানে এই জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত শিপন থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর ফারজানা ও শিপনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। তাদের মধ্যে বিরোধ ও ক্ষোভ থেকে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে বলেও ধারণা সংশ্লিষ্টদের। ফারজানা ও শিপনের সংসারে এক বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও মেয়ের দাফন শেষে নাতিকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন নিহত রাত্রির বাবা ফল বিক্রেতা ফারুক হোসেন। তিনি গতকাল সোমবার বলেন, একমাত্র মেয়ে ও স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। শিপন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। সংসারে শান্তি না থাকায় তালাকের কথা বললেই তো তালাক হয়ে যায় না। তাই বলে নৃশংসভাবে খুন করবে।

কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক বলেন, স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার ঘটনায় পরিবারের করা হত্যা মামলায় শিপনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যতটুকু শুনেছি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। ঘটনার আগেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিলে শিপন দুজনকেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। শোনা যাচ্ছে, শিপন ছুরি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করেছিল। হত্যার উদ্দেশ্যেই শিপন সেখানে গিয়েছিল কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।

গ্রেপ্তার শিপনের কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্যের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবিবার সকালে শিপন কলবাগান আল-আমিন রোডের মসজিদের পাশে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিয়ে জামাইকে বকাঝকা করে বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে তুমি সবসময় ঝগড়া কর। সে আর তোমার কাছে থাকবে না, তোমাকে তালাক দেবে। এ কথা শোনার পর শিপন উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী রাত্রিকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে গেলে শাশুড়িকেও ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান। এরপর শিপন ছেলে রায়হানকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে শিপন নিজে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।