রাজধানীর কদমতলী শনির আখড়া এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে নাঈম ইসলাম শেখ (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শনির আখড়া জোড়া খাম্বা এলাকার রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার তৃতীয়তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কদমতলী থানার এসআই আমজাদ হোসেন জানান, বিকেলে শিক্ষকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই মাদ্রাসায় যান তারা। সেখানে শিশুটির মৃতদেহ নিচে শোয়ানো অবস্থায় রাখা ছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। শিক্ষকদের বরাতে তিনি জানান, জোহরের নামাজের আগে বাথরুমে ঢুকে শিক্ষার্থী নাঈম। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও সাড়াশব্দ না পেয়ে শিক্ষকরা দরজা ভেঙে দেখেন, কাপড় রাখার হ্যাঙ্গারের সঙ্গে পাঞ্জাবি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে। এরপর তারা ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামান। এর বাইরে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতালে নাঈমের মা নাজমা আক্তার জানান, তাদের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরের মোশন গ্রামে। বর্তমানে কদমতলীর মুরাদপুর এলাকায় ভাড়া থাকেন। নাঈমের বাবার নাম বাবু শেখ। দুই ভাইয়ের মধ্যে নাঈম ছিল বড়। দুই ছেলেই একই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। মাদ্রাসাতেই থাকত। গতকাল বিকেলে মাদ্রাসার শিক্ষক ফোন করে জানান, নাঈম অসুস্থ। এরপর দ্রুত মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে মৃত অবস্থায় পান তারা। তিনি বলেন, গত শুক্রবার বাসা থেকে খাবার নিয়ে দুই ছেলেকে দেখতে গিয়েছিলাম। নাঈম আমাদের কিছু বলতে চেয়েছিল। এ সময় জাকারিয়া নামে এক শিক্ষক সঙ্গে থাকায় কিছু বলতে পারেনি সে। আমার ছেলে ফাঁস দিতে পারে না। এর মধ্যে অন্য কোনো ঘটনা আছে। তিনি বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।
