৬৫ বছরেও তলদেশ খনন না হওয়ায় পলি জমে কমেছে কাপ্তাই হ্রদের নাব্য। যার প্রভাব পড়েছে পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি বাঁধের জলকপাট খুলে ছেড়ে দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন একেবারে কম হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে হ্রদের নাব্য বৃদ্ধি দরকার।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ষাটের দশকে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি করা হয়। যা কাপ্তাই হ্রদ নামে পরিচিত। মূলত কাপ্তাই হ্রদের পানি ব্যবহার করে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এই হ্রদ সৃষ্টি করা হয়। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। চলতি বছর গত ১৮ জুলাই কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়ে। গত বছর পাঁচ দফায় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত জলকপাট খোলা রাখা হয় প্রায় ৩০ দিন। এতে প্রচুর পানি কোনো প্রকার ব্যবহার ছাড়াই ছেড়ে দিতে হয়। অথচ এই পানির অভাবে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, শুষ্ক মৌসুম নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত হ্রদে পানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সর্বনিম্ন একটি ইউনিট চালু রেখে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়। হ্রদের নাব্য বৃদ্ধি পেলে শুষ্ক মৌসুমে বাড়তি আরও একটি বা দ্ইুটি ইউনিট চালু রেখে আরও ৪০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এই কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। হ্রদের নাব্য বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি উপজেলার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
জুরাছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা বলেন, আগে বর্ষায় যেসব জায়গা প্লাবিত হতো না, এখন সেসব জায়গাও প্লাবিত হচ্ছে। আমরা মনে করছি, নদীর তলদেশ ভর্তি হওয়ার কারণে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যদি নদীর তলদেশ খনন করা হয়, তবে নাব্য বৃদ্ধি পাবে। এতে শুষ্ক মৌসুমেও যেমন যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকবে, তেমনি কৃষিতে এলাকাবাসী উপকার পাবে। বিদ্যুতের উৎপাদনও বাড়বে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ খননের বিকল্প নেই। কাপ্তাই হ্রদ খনন করা হলে পানি আরও বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে যোগাযোগের সুবিধা যেমন বাড়বে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে বাড়তি একটি বা দুটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুতের উৎপাদন আরও বাড়ানো যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন ত্রিপুরা বলেন, তলদেশ খননে একটি প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে কাচালং, রাইংক্ষ্যং, শলক নদীর তলদেশ খনন করা হবে। এতে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু ও জুরাছড়ির রুটে নাব্য বৃদ্ধি পাবে। শীঘ্রই খননের কাজ শুরু হবে।