ভারত থেকে এলো ৫৬ টন কাঁচা মরিচ

দেশে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পর সরকার কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দুটি স্থলবন্দর দিয়ে ৫৬ টন কাঁচা মরিচ দেশে এসেছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল সোমবার ৩৫ টন ও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ২১ টন মরিচ আমদানি হয়। আমদানি করা মরিচ বাজারে এলে দ্রুতই দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রথম চালানে ১২টি কাঁচা মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। এতে মোট ৩৫ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়। সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান পানামা-সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কামাল খান এ তথ্য জানান।

স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ বাড়াতে ও দাম নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৭৭ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ২৮ হাজার ৯৫০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগে এ বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর ফের এই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচের চালান আসা শুরু হলো। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারেও। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউ মার্কেট সবজি বাজারের বিক্রেতা আব্দুল খালেক জানান, সোমবার কাঁচা মরিচ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা এবং খুচরা বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, যা গত এক সপ্তাহ ধরেই অপরিবর্তিত। তবে আমদানি করা মরিচ বাজারে পৌঁছালে দ্রুতই দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়েও ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। গতকাল বগুড়ার রাজ এন্টারপ্রাইজ ও মাহাদি এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান ২১ টন কাঁচা মরিচ আমদানি করে। ভারতের কাটিহার থেকে এসব কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়েছে। এতে করে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও অনেকটাই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত বছরের ২০ নভেম্বর ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দরের কাঁচা মরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে চাহিদামাফিক না পাওয়ায় দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। ভারতে কাঁচা মরিচের দাম কম, তাই আমরা আমদানির অনুমতি চেয়েছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। প্রথম দিন আমদানির পরিমাণ কম হলেও আাগামীতে বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানির পরিমাণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।