জীবন-জীবিকার তাগিদে ২০১৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। কিন্তু প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা ও চরম প্রতিকূলতার মাঝেও শৈশবের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন হারিয়ে যেতে দেননি। ইচ্ছা, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে খুলনার তরুণ নাজমুস সাকিব আজ ঠাঁই করে নিয়েছেন মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলে। এবার সেই মালয়েশিয়ার জার্সি গায়েই জন্মভূমিতে খেলতে আসছেন এই প্রবাসী বাংলাদেশি। সাথে আসছেন ডেভ হোয়াটমোর, যিনি এক সময় বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন। এখন তিনি মালয়েশিয়ার ক্রিকেট ডিরেক্টর।
বুধবার মালয়েশিয়া জাতীয় দলের হয়ে সফরে এসে প্রথমে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবেন ২৬ বছর বয়সী সাকিব। এরপর বসুন্ধরা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও মাঠে নামবেন তিনি। শৈশবের চেনা আঙিনায় ফিরলেও এবার তার পরিচয় ভিন্ন—তিনি মালয়েশিয়ার জাতীয় দলের ক্রিকেটার।
পিতৃহীন সাকিবের বাড়ি খুলনার রূপসায়। বর্তমানে তিনি কাজ করেন মালয়েশিয়ার নেগেরি সিমবিলান প্রদেশের ‘সিলিফোকাস এসডিএন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। কাজের ফাঁকে নিয়মিত টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতেন। সেখান থেকেই পরিচয় ঘটে মালয়েশিয়া জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে। পরে প্রবাসে থাকা দুই শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায় সুযোগ পান দেশটির শীর্ষস্থানীয় ক্লাব ‘এসএসএফ প্যান্থারস’-এ।
ক্লাব ক্রিকেটেই মূলত বদলে যায় সাকিবের ভাগ্য। উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে ধারাবাহিক অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে কেড়ে নেন স্থানীয় নির্বাচকদের মন। টানা তিন বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলার পুরস্কার হিসেবে ডাক পান মালয়েশিয়া ‘এ’ দলে। সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫০ বলে ১২২ রানের এক বিধ্বংসী শতক হাঁকিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন সাকিব।
ধারাবাহিক সাফল্যের ফল হিসেবে তিনি জায়গা করে নেন ওমানে অনুষ্ঠিত ‘এসিসি মেনস প্রিমিয়ার কাপ’ টি-টোয়েন্টির দলে। এরপর গত জুনে অনুষ্ঠিত ৫০ ওভারের ‘এসিসি মেনস চ্যালেঞ্জ কাপ’-এ মালয়েশিয়া জাতীয় দলের হয়ে সাকিবের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে। অভিষেক টুর্নামেন্টেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি, আর শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জেতে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়ার জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখলেও সাকিবের স্বপ্নের পরিধি আরও বড়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্ত করেছিলেন, একদিন মালয়েশিয়াকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখতে চান এবং আইসিসি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দলটিকে সেরা ২০-এর মধ্যে নিয়ে যেতে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে চান।
এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার হয়ে ৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন সাকিব, যেখানে ২ ইনিংসে অপরাজিত থেকে সংগৃহীত রান ১৫। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে এবং নিজেকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই দ্বিপক্ষীয় সফরটিই সাকিবকে দিচ্ছে বড় মঞ্চ।
বাংলাদেশ সফরের জন্য ঘোষিত মালয়েশিয়া স্কোয়াড:
সৈয়দ আজিজ (অধিনায়ক), বিজয় উনি, বিরানদীপ সিং, সাইফ উল্লাহ, আহমাদ জুবাইদি, মুহাম্মদ আমির আজিম, আরিফ উল্লাহ, আজাব খান, প্রশান্ত মাধুকর, নাজমুস সাকিব, শারভিন মুনিয়ান্ডি, আসলাম খান বিন মালিক, আহমাদ আকিল ওয়াহিদ ও বিষভারুবেন কুমার।