ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইলের’ অভিযোগ সাবেক ফিফা সহ-সভাপতির 

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় ক্রমেই গভীর হচ্ছে সংকট। আসন্ন ফিফা নির্বাচনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন ‘ব্ল্যাকমেইল’ বা বাধ্যবাধকতার আশ্রয় নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (জেএফএ) সভাপতি প্রিন্স আলী বিন হুসেইন দাবি করেছেন, ইনফান্তিনোকে সমর্থন না জানানোয় জর্ডানের পাওনা আর্থিক সহায়তা আটকে রেখেছে ফিফা।

বিশ্ব ফুটবলের মসনদে ইনফান্তিনোর একচ্ছত্র আধিপত্য যখন নড়েবড়ে হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন জর্ডান ফুটবলের প্রধান।

সম্প্রতি বিশ্বকাপকে ঘিরে একটি বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন ইনফান্তিনো। এরমধ্যেই  বিন হুসেইনের এই বক্তব্যে ফিফা প্রশাসনের ভেতরের চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সেই পোস্টে তিনি লিখেন, কাতার আরব কাপে রানার্সআপ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের যে প্রাইজমানি পাওয়ার কথা ছিল, তা দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রেখেছে ফিফা। অথচ ফিফা বিশ্বজুড়ে তাদের রিজার্ভের হাজার হাজার কোটি টাকার হিসাব দিয়ে বাহবা কুড়ায়।

সংকট নিরসনে ফিফার অসহযোগিতা প্রসঙ্গে বিন হুসেইন আরও বলেন, ‘বেশ কয়েকমাস ধরে ফিফা আমাদের কোনো কাজেই সাহায্য করছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় আমাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আমি যদি ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানাই, তবে আমাদের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বকেয়া ও অন্যান্য জটিলতা সহজে সমাধান করে দেওয়া হবে।’ নৈতিকতার প্রশ্নে আপসহীন থাকার কথা জানিয়ে তিনি এক্স হ্যান্ডলে আরও লিখেন, ‘আমরা অতীতে তাকে সমর্থন করিনি, এবারও করব না। পুরো বিষয়টিই এক ধরনের ব্ল্যাকমেইল, আর আমরা এই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।’

এদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে খোদ ফিফার অন্দরমহলেই এখন বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ ইমেলে এই পুরো পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক ও ধিক্কারজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। পাশাপাশি, ফিফার গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট প্রধান ও আর্সেনালের সাবেক কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও এই বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখে একে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের পর এবার গ্রিসসহ অন্যান্য ফেডারেশনগুলোও ইনফান্তিনোকে দেওয়া তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। সবমিলিয়ে আগামী মার্চের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইনফান্তিনোর সিংহাসন এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।