মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন রিকশাচালক বাবা

সারাক্ষণ ছুটে বেড়াত ১৬ বছরের আকলিমা আক্তার। বাড়ির কাজে মাকে সহযোগিতা করত, আবার প্রতিবেশীদেরও নানা কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত। সবার প্রিয় এই কিশোরী স্কুলেও ছিল সহপাঠীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে তার জীবন।

মায়ের অসুস্থতার কারণে রান্না করতে গিয়ে হাত থেকে গরম ডালের পাতিল পড়ে মুখমণ্ডল, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতরভাবে ঝলসে যায় আকলিমার। অর্থাভাবে দুর্ঘটনার দিনই তাকে হাসপাতালে নিতে পারেননি বাবা। পরদিন প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আকলিমার মুখমণ্ডল ও চোখের ক্ষত সারাতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। পাশাপাশি প্লাস্টিক সার্জারিও লাগতে পারে। এসব চিকিৎসার ব্যয় বহন করা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। 

আকলিমা চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দক্ষিণ বারশত গ্রামের রিকশাচালক সেলিম উদ্দিনের বড় মেয়ে। তার ছোট বোন আসমা আক্তার তায়্যিহার বয়স ১০ বছর। আকলিমা বারশত-বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৩০ জুলাই দুপুরে মাটির চুলায় রান্না করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

রিকশা চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলত সেলিম উদ্দিনের। অভাব থাকলেও মেয়েদের পড়ালেখার ব্যাপারে কখনো কার্পণ্য করেননি। মেয়ে খাতা-কলম কেনার জন্য ৫০ টাকা চাইলে তিনি ১০০ টাকা তুলে দিতেন হাতে। সেই বাবাই এখন মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে দিশেহারা।

ইতোমধ্যে ধারদেনা করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন তিনি। হাসপাতালের শয্যায় মেয়ের যন্ত্রণা দেখে নিজেও ভেঙে পড়ছেন। অন্যদিকে মা পাখি আক্তারের চোখেও যেন অশ্রু থামছে না। পরিবারের সদস্যরা এখন বিভিন্ন মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, “মেয়ের কষ্ট দেখে নিজেকে সামলাতে পারি না। সামান্য সঞ্চয় আর ধারদেনা করে কয়েক দিন চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই।”

আকলিমার মা পাখি আক্তার বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারলে মেয়ের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্তত এক বছর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এত টাকা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

বারশত-বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, আকলিমা অত্যন্ত মেধাবী, নম্র ও ভদ্র ছাত্রী। তার এই দুর্ঘটনার খবর শুনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মর্মাহত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, আকলিমার সুস্থ হওয়ার আশা আছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো মেয়েটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

বর্তমানে আকলিমার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পরিবারটি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।