সামুদ জাতি ধ্বংসের ঘটনায় আমাদের শিক্ষা

ইতিহাস ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। কোরআনে উল্লিখিত বিভিন্ন জাতির ঘটনা তারই প্রমাণ। সামুদ জাতির ধ্বংসের কাহিনি থেকে আমরা জানতে পারি শক্তি, সম্পদ কিংবা উন্নত সভ্যতা কখনো আল্লাহর শাস্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে না। যখন একটি জাতি সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, অহংকারে অন্ধ হয়ে যায় এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, তখন তার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

সামুদ ছিল আরবের শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ এক জাতি। তারা পাহাড় কেটে সুদৃঢ় বাড়িঘর নির্মাণ করত। স্থাপত্যশিল্পে তারা ছিল অত্যন্ত দক্ষ। আল্লাহ তাদের প্রচুর নেয়ামত দান করেছিলেন। কিন্তু সেই নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করার পরিবর্তে তারা শিরক ও অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়।

মহান আল্লাহ তাদের হেদায়াতের জন্য নবী সালেহ (আ.)-কে পাঠান। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তাদের এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান জানান। মূর্তিপূজা ছেড়ে তাওহিদের পথে ফিরে আসতে বলেন। কিন্তু জাতির অধিকাংশ মানুষ তার দাওয়াত গ্রহণ করেনি। বরং তাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিয়েছে।

আল্লাহ তাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন প্রকাশ করেছিলেন। অলৌকিকভাবে একটি উষ্ট্রী তাদের সামনে উপস্থিত হয়। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি মুজিজা। সালেহ (আ.) তাদের সতর্ক করে বলেছিলেন, উষ্ট্রীকে কোনো কষ্ট দেওয়া যাবে না। এটি আল্লাহর নিদর্শন। কিন্তু তাদের অহংকার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তারা আল্লাহর এই নির্দেশকেও উপেক্ষা করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং উষ্ট্রীটিকে হত্যা করল।’ (সুরা শামস ১৪)

এই আয়াত আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। সত্যকে অস্বীকার করতে করতে একসময় মানুষ এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যে, আল্লাহর প্রকাশ্য নিদর্শনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে দ্বিধা করে না। সামুদ জাতির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। একজন ব্যক্তি উষ্ট্রীটিকে হত্যা করলেও পুরো জাতি সেই অপরাধে সন্তুষ্ট ছিল। তাই শাস্তিও পুরো জাতির ওপর নেমে আসে।

এরপর আল্লাহতাআলা বলেন, ‘অতঃপর তাদের পাপের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদের ওপর ধ্বংস নাজিল করলেন এবং তাদের সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। আর তিনি এর কোনো পরিণামের ভয় করেন না।’ (সুরা শামস ১৪-১৫)

এখান থেকে একটি শিক্ষা হলো, অন্যায়কে সমর্থন করাও অপরাধ। উষ্ট্রী হত্যার কাজে সবাই অংশ নেয়নি। কিন্তু তারা কেউ প্রতিবাদও করেনি। বরং অপরাধকে মেনে নিয়েছিল। ফলে শাস্তিও সবার ওপর নেমে আসে। আজ আমাদের সমাজেও যদি অন্যায় দেখে আমরা নীরব থাকি, তবে সেই নীরবতা আমাদের জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে।

লেখক : ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক