পাপকে স্বাভাবিক মনে করার ক্ষতি অনেক। তখন অনুশোচনা কমে আসে। তওবার আকাক্সক্ষাও মøান হয়ে যায়। এ অবস্থাই একজন মানুষের ইমানি জীবনের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে, সে অবশ্যই সফল হয়েছে। আর যে ব্যক্তি সেটাকে পাপ ও কলুষতার মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে, সে অবশ্যই ব্যর্থ হয়েছে।’ (সুরা শামস ৯-১০)
এই দুই আয়াত মানুষের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার মূলনীতি ঘোষণা করেছে। আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা মানে শুধু ইবাদত করা নয়। বরং পাপ থেকে দূরে থাকা, ভুল হলে দ্রুত তওবা করা এবং অন্তরকে আল্লাহর আনুগত্যে গড়ে তোলা। পক্ষান্তরে আত্মাকে কলুষিত করা মানে গুনাহকে প্রশ্রয় দেওয়া, বারবার অন্যায় করা এবং একসময় সেটাকেই স্বাভাবিক মনে করা। এমন মানুষকে বাহ্যিকভাবে সফল মনে হলেও আল্লাহর কাছে সে সফল নয়। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘কখনোই নয়, বরং তারা যা অর্জন করে, তারই কারণে তাদের অন্তরের ওপর মরিচা জমে গেছে।’ (সুরা মুতাফ্ফিফিন ১৪)
মানুষ যখন বারবার পাপ করে, তখন সেই পাপ অন্তরকে অন্ধকার করে দেয়। শুরুতে যে অন্যায় তাকে কষ্ট দিত, পরে সেটিই স্বাভাবিক মনে হয়। এ কারণেই গুনাহের ধারাবাহিকতা সবচেয়ে ভয়ংকর। এটি ধীরে ধীরে মানুষের বিবেককে নিস্তেজ করে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যখন একটি পাপ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। যদি সে পাপ থেকে ফিরে আসে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তওবা করে, তাহলে তার অন্তর পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। আর যদি সে আবার পাপে ফিরে যায়, তবে সেই কালো দাগ বাড়তে থাকে। অবশেষে তা পুরো অন্তরকে ঢেকে ফেলে। (জামে তিরমিজি)
এই হাদিস আমাদের শেখায়, পাপের পর অনুশোচনা ইমানের লক্ষণ। কিন্তু অনুশোচনা হারিয়ে গেলে বিপদ শুরু হয়। তখন মানুষ পাপকে আর পাপ মনে করে না। বরং নিজের কাজকে যুক্তি দিয়ে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করে।
আজকের সমাজে এমন বহু বিষয় আছে, যেগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। মিথ্যা বলা, গিবত করা, প্রতারণা, সুদকে সহজভাবে নেওয়া, অশ্লীলতা ছড়ানো, মানুষের সম্মানহানি করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে অপমান করা, এসব কাজকে অনেকে আর গুনাহ মনে করেন না। অথচ আল্লাহর কাছে এগুলোর প্রতিটির হিসাব রয়েছে।
একজন মুমিনের উচিত, প্রতিদিন নিজের অন্তরের হিসাব নেওয়া। কোনো গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তওবা করা। সৎ মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করা। বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়া। কারণ আত্মশুদ্ধি একদিনের কাজ নয়। এটি আজীবনের সাধনা।
লেখক : ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক