স্বপ্নের ‘বড় ক্লাবের’ ঠিকানায় ভোজিনহা

ছোট ক্লাবে বা নাম না জানা লিগে কেটেছে ক্যারিয়ারের বড় একটা সময়। তবে মনের অজান্তেই নিজেকে সবসময় বড় মঞ্চেরই তারকা ভাবতেন কেপ ভার্দের তারকা গোলরক্ষক ভোজিনহা। সেই অটুট আত্মবিশ্বাস আর বিশ্বকাপের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবার এই ৪০ বছর বয়সি লড়াকুকে ঠিকই পৌঁছ দিল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গন্তব্যে। চিলির ঐতিহ্যবাহী ও রেকর্ড ৩৪ বারের লিগ চ্যাম্পিয়ন কোলো কোলোতে যোগ দিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ক্লাব ট্রান্সফারটি সম্পন্ন করেছেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছিলেন ভোজিনহা। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যেই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্ব আসরেই গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার করে। শক্তিশালী স্পেনের সঙ্গে ড্র, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে দারুণ লড়ে শেষ বত্রিশে পৌঁছানোর পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে বিদায় নেয় দলটি। বিশ্বকাপের এই আলোয় ভোজিনহার সামাজিক মাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ৫০ হাজারের নিচ থেকে রাতারাতি প্রায় ৩ কোটিতে পৌঁছে যায়, যা তাকে পরিণত করে বিশ্ব ফুটবলের এক নতুন সেনসেশনে।

পর্তুগালের দ্বিতীয় সারির ক্লাব শাভেস ছাড়ার পর ভোজিনহার এই অবিশ্বাস্য উত্থান ফুটবল বিশ্বে ঝড় তোলে। কোলো কোলোতে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ভোজিনহা বলেন, ‘ছোট লিগে এবং সেভাবে জায়ান্ট নয় এমন ক্লাবে খেললেও, হৃদয়ের গহিনে আমি সবসময় নিজেকে একজন ‘বড় ক্লাবের’ খেলোয়াড় হিসেবেই ভাবতাম। তাই যখন কোলো কোলো থেকে প্রস্তাব এল, তখন বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছিল না। প্রথম দিন থেকেই আমি জানতাম আমি কোথায় খেলতে চাই। আমার কাছে অনেক অফার এসেছিল, কিন্তু কোলো কোলো-ই সবসময় আমার প্রধান অগ্রাধিকার ছিল।’

এর আগে অ্যাঙ্গোলা, সাইপ্রাস, মলদোভা ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশের ক্লাবে খেলে আসা ভোজিনহার কাছে এই ক্লাবে যোগ দেওয়া তার ক্লাব ক্যারিয়ারের সেরা প্রাপ্তি। বিশ্বকাপকে নিজের জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা আমার সঙ্গে ঘটা সেরা ঘটনা, তবে সেটা এখন অতীত। কোলো কোলোর মতো সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক বিশাল ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করাই এখন আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের হাইলাইট।’

এদিকে, চিলির ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর মাঠের বাইরের একটি মজার ও বড় চ্যালেঞ্জও পার করতে হয়েছে ভোজিনহাকে। চিলিয়ান ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের জার্সিতে তাদের মূল নাম ভা পারিবারিক পদবি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। অথচ ‘ভোজিনহা’ (যার অর্থ পর্তুগিজ ভাষায় ‘ছোট দাদি’) নামটি তার সারা জীবনের পরিচিতি। এই নিয়মের বেড়াজালে পড়ে ছদ্মনাম হারানোর শঙ্কা তৈরি হলেও চিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের বিশেষ ব্যতিক্রমী অনুমোদনে সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। এ নিয়ে ভোজিনহা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘এটি এমন একটি নাম, যা আমি সারা জীবন ব্যবহার করেছি। কেপ ভার্দেতে এর বিশাল তাৎপর্য রয়েছে এবং এখন বিশ্বজুড়েও এর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। যদি আজ আমার দাদি বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই খুব গর্বিত হতেন। আমি আমার ক্যারিয়ারের বাকি সময় জুড়ে এই নামটিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে টিকিয়ে রাখতে চাই।’