নামাজে আমিন জোরে না আস্তে

প্রশ্ন : কোনো কোনো মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলে দেখা যায়, ইমাম সাহেব সুরা ফাতেহা শেষ করার পর মুসল্লিরা জোরে আমিন বলেন। অনেক স্থানের মুসল্লিরা আবার আস্তে আমিন বলেন। আমার জানার বিষয় হলো, আমিন আস্তে বলা সঠিক নাকি জোরে বলা?

খন্দকার রাকিবুল হাসান, রূপনগর, মিরপুর

উত্তর : সুরা ফাতেহার পর আমিন বলা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হাদিসে এর অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নামাজে যেমন ইমাম ও একা নামাজ আদায়কারীর জন্য আমিন বলা সুন্নত তেমনি মুক্তাদির জন্যও আমিন বলা সুন্নত, যখন ইমাম সুরা ফাতেহা পড়া শেষ করবে।

মুজতাহিদ ফকিহদের মতে আমিন মুখে উচ্চারণ করতে হবে। অর্থাৎ তা মনে মনে পড়ার বিষয় নয়, বরং নামাজের অন্যান্য তাসবির মতো আমিনও সহিহ-শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করতে হবে। তবে তাদের মাঝে এ বিষয়ে সামান্য মতপার্থক্য হয়েছে যে, আমিন শব্দটি কি আস্তে উচ্চারণ করা হবে, না জোরে। এটা মূলত সুন্নতের বিভিন্নতা, যাকে ইখতিলাফে মুবাহও বলা হয় অর্থাৎ এখানে দুটি নিয়মই বৈধ এবং যে নিয়মই অনুসরণ করা হোক সুন্নত আদায় হবে।

কিন্তু আফসোসের বিষয় এই যে, অন্য অনেক কিছুর মতো এটাকেও মানুষ জায়জ-নাজায়েজ ও সুন্নত-বেদয়াতের পর্যায়ে নিয়ে গেছে, এমনকি একে কেন্দ্র করে বিবাদেও লিপ্ত হয়েছে। এখনো অনেক জায়গায় দেখা যায়, কিছু মানুষ এত উঁচুস্বরে আমিন বলেন, যেন নামাজের মাঝেই অন্য মুসল্লিদের কটাক্ষ করেন যে, তোমরা সবাই সুন্নাহ ত্যাগকারী! জামাতের নামাজে জোরে আমিন, আস্তে আমিন সম্পর্কে কয়েকটি কথা মনে রাখা কর্তব্য।

এ বিষয়ে মুজতাহিদ ইমামদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। আর তা জায়েজ-নাজায়েজের মতভেদ নয়। বরং উত্তম-অনুত্তম নির্ণয়ের মতভেদ। ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, এটা বৈধ মতবেদের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কোনো পক্ষেরই নিন্দা করা  যায় না। যে কাজটি করছে তারও না, যে করছে না তারও না।

আতা ইবনে রাবাহ বলেন, আমিন হচ্ছে দোয়া। অতএব প্রথমেই দেখা উচিত, দোয়া কি জোরে করা উত্তম, না আস্তে? যদিও জোরে দোয়া করাও জায়েজ। তবে দোয়ার মূল তরিকা হলো আস্তে করা। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ডাক কাতরভাবে ও গোপনে। তিনি সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’

হজরত জাকারিয়া (আ.) সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন তিনি তার প্রতিপালককে ডাকলেন অনুচ্চস্বরে।’

আমিন যেহেতু দোয়া তাই কোরআনের উপরোক্ত নীতি অনুযায়ী তা আস্তে ও অনুচ্চস্বরে বলাই উত্তম।

(তথ্যসূত্র : জাদুল মাআদ ১/৭০, সহিহ বুখারি ১/১০৭, মাজমাউল বিহার ১/২০৫, সুরা আরাফ ৫৫, সুরা মারইয়াম ৩)