সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চার শাখা বন্ধের (উইন্ডিং-ডাউন) ঝুঁকি নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ব্যাংকটির কার্যক্রম যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও যোগ দেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ও জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবুর রহমান।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংকের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এর আগে মূলধন ঘাটতির কারণে আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনতা ব্যাংকের চারটি শাখা উইন্ডিং-ডাউনের সিদ্ধান্ত জানায়। এরপর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জনতা ব্যাংক দেশের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯৭৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে বর্তমানে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল-আইনে চারটি পূর্ণাঙ্গ শাখা এবং আবুধাবিতে একটি প্রধান নির্বাহী কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সেবা দিচ্ছে।
বর্তমানে আরব আমিরাতে প্রায় ১০ লাখ রেমিট্যান্স-সংশ্লিষ্ট গ্রাহক, প্রায় ৭০ হাজার আমানত হিসাবধারী এবং প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ঋণগ্রহীতাকে সেবা দিচ্ছে জনতা ব্যাংক। বাংলাদেশ থেকে প্রেষণে নিয়োজিত ২০ জন এবং স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৫ জনসহ মোট ৯৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করছেন।
জনতা ব্যাংকের নিজস্ব এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী সেখানে জনতা ব্যাংকের চারটি শাখা পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম মূলধন প্রয়োজন। বর্তমানে দেশটিতে জনতা ব্যাংকের মূলধন রয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন দিরহাম। এই বিপুল ঘাটতির কারণে চারটি শাখা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঘাটতির বিষয়ে গত ২২ এপ্রিল জনতা ব্যাংককে অবহিত করা হয়েছিল। তবে এর তিন মাস পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শাখা বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।