বরুড়ায় হাসপাতালের সামনে স্বজনহীন ব্যক্তির মরদেহ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে নারায়ণ চন্দ্র শীল (নারু) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ফজরের নামাজের পর পথচারীরা হাসপাতালের সামনে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন।

প্রথমে মরদেহটি অজ্ঞাত ব্যক্তির বলে ধারণা করা হলেও পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি বরুড়া পৌরসভার কাসেড্ডা গ্রামের মৃত মনমোহনের ছেলে নারায়ণ চন্দ্র শীল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণ একসময় সেলুনে কাজ করতেন। তবে কয়েক বছর ধরে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তিনি বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিকবার চিকিৎসাও নিয়েছিলেন।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বিশেষ করে পায়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দিলেও সময়মতো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করানো আর সম্ভব হয়নি। 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অনেকেই আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একজন অসহায় মানুষ প্রয়োজনের সময় যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ায় মানবিক দায়িত্ব পালনে সমাজের ব্যর্থতাই যেন এই মৃত্যুর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

বরুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দিন জানান, সকালে হাসপাতালের সামনে থেকে নারায়ণ শীলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নারায়ণ একসময় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার কোনো স্বজন বা ওয়ারিশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।