কুমিল্লায় অতিথি পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কিশোরনগর গ্রামে পরিযায়ী (অতিথি) পাখির নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাখির বিচরণ নিশ্চিত ও পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে ৯ সদস্যের একটি সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পাশাপাশি পাখির আবাসস্থল সুরক্ষায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে তারকাঁটার বেড়া দেওয়া এবং বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন কিশোরনগর গ্রামের ওই পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল পরিদর্শনে যান। পরে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, জমির মালিক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, কিশোরনগর গ্রামের প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে চারটি পরিবারের মালিকানাধীন বাঁশঝাড়, পুকুর ও বিভিন্ন গাছে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আশ্রয় নেয়। বাংলা জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত প্রায় তিন-চার মাস এসব পাখি সেখানে অবস্থান করে। এলাকাটিতে ঢালাওভাবে পাখি শিকারের প্রবণতা না থাকলেও মাঝে মাঝে কিছু লোক পাখি ধরার চেষ্টা করে বলে সভায় উঠে আসে।

পরিযায়ী পাখির এই আবাসস্থল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রকৌশলী তফাজ্জলকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা বন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, জমির মালিক রোকনুজ্জামান, অলিউল্লাহ, মাহবুব ও নজরুল ইসলাম এবং কিশোরকণ্ঠ ইউনিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পরিযায়ী পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দেওয়া হবে তারকাঁটার বেড়া। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, পরিযায়ী পাখি আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কিশোরনগরের বাসিন্দারা। তাদের আশা, সমন্বিত এই প্রচেষ্টায় গ্রামটি পরিযায়ী পাখির দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে থাকবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুলতান আহমেদ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুমসহ অনেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত