প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম মো. ফরিদ। তিনি প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাই সি এয়ারের মালিক। এর আগে গত শনিবার প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে অক্ষর সৌভিক রায় নামে এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম ও আইন) আ ম ফারুক বলেন, র‌্যাব-১৫ ও র‌্যাব-৪ এর যৌথ দল মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকার আজাদ মিনি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ফরিদকে গ্রেপ্তার করে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে কক্সবাজারে ফেরত আনা হয় এবং সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত শনিবার দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ে আকাশে ওড়ার মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান অক্ষর সৌভিক রায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অক্ষর সৌভিক খুলনা সিটি করপোরেশনের বানিয়াখামার এলাকার স্যার ইকবাল সড়কের বাসিন্দা শেখর রায়ের ছেলে। প্যারাসেইলিংয়ে করতে খুলনা থেকে ৯ জনের একটি দল দরিয়ানগর সৈকতে গিয়েছিলেন। জনপ্রতি ২ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে কয়েকজন আকাশে ওড়ার প্রস্তুতি নেন। প্রথম দফায় সৌভিক প্যারাসেইলিংয়ে উঠলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় সৌভিককে উদ্ধারে বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় সৌভিকের বোন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ফরিদকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার বলেন, মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর, হিমছড়ি ও প্যাঁচারদিয়া সৈকতে পর্যটকদের প্যারাসেইলিং করানোর তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো ফ্লাই সি এয়ার, ফানফেস্ট প্যারাসেইলিং ও স্যাটেলাইট ভিশন প্যারাসেইলিং। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে আসছিল। তবে ২০২৪ সালের জুনে অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হলেও তা হালনাগাদ করা হয়নি।