অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে হচ্ছে কিডনির পাথর অপসারণ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অহরহ অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে কিডনির পাথর অপসারণ করা হচ্ছে। বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক নিয়মিত এই কাজটি করছেন।

জানা গেছে, এই পদ্ধতি রোগীর জন্য সুবিধাজনক এবং সহজ। রোগীর বেশি দিন হাসপাতালে থাকতে হয় না। ক্ষুদ্র যন্ত্রের মাধ্যমে কিডনির পাথর বের করে আনা হয়। দুদিনেই রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এত ছোট ছিদ্র করা হয়,  যেখানে কোনো সেলাইও লাগে না। একেবারেই টিউবলেস পদ্ধতি। অপারেশনের পর কোনো টিউব পরানো লাগে না। টিউব পরালে ছয় সপ্তাহ পর রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে আবার টিউব খুলতে হয়। সেই দুর্ভোগ থেকেও রোগীর মুক্তি মিলছে। সঙ্গে খরচও কমছে। বেসরকারি হাসপাতাল ভেদে এই অপারেশনে এক লাখ টাকার বেশি লাগে। কিন্তু বিএমইউতে ১০-১২ হাজার টাকায় হয়ে যায়। ২৫ মিলিমিটারের ছোট পাথরগুলো এই পদ্ধতিতে অপসারণ করা হয়। এতে রোগীর ইনফেকশনের ঝুঁকিও কমে যায়। টিউব পরালে কিংবা অপারেশনে সেলাই দিলে সেখানে ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে। সেই ঝুঁকিও মুক্ত থাকা যায়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এটা শুরু করেছি। আমরা চাই হাসপাতাল থেকে যেন রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। আমরা চেষ্টা করি যাতে তাদের ভোগান্তি এবং কষ্ট কম হয়। যাতে বারবার হাসপাতালে না আসতে হয়।

ইউরোলজি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ হাসান রিফাত বলেন, আমারা অনেক ধরনের রোগী পাই। এরমধ্যে খুব কমন কিডনির পাথরের রোগী। কিডনির পাথর অপসারণের ধরন নির্ভর করে পাথরের সাইজ এবং অবস্থানের ওপর। পেট কেটে বা ফুটো করে পাথর অপসারণ করা হয়। পেট ফুটো করারও আবার অনেক ধরন আছে। কোনো সময় বড় ছিদ্র করতে হয়, আবার কখনো ছোট ছিদ্র।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ছোট একটা পাথরের জন্য রোগীর পেট কাটা যৌক্তিক না। রোগীর জন্য খুবই কষ্টকর। সেজন্য স্ট্যান্ডার্ড যে চিকিৎসা আছে তার মধ্যে পিসিএনএল খুব উপযুক্ত। পাথরের আকার ছোট থাকলে টিউবলেস মিনি পিসিএনএল করে পাথর অপসারণ করা হয়। এতে টিউব খোলার ভোগান্তি থেকে রোগী রক্ষা পাচ্ছেন। একবারে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যেতে পারেন। 

টাঙ্গাইল থেকে আসা রোগী হালিমা বেগমের কিডনির ডান পাশে নিচের দিকে ১.৪ মিলিমিটার পাথর ছিল। মিনি পিসিএনএলের মাধ্যমে সেই পাথর অপসারণ করা হয়েছে। হালিমা বেগম বলেন, ‘এলাকায় চিকিৎসক দেখালে তিনি এই হাসপাতালে রেফার করেন। এখানে আসার পর পরীক্ষা করে ডাক্তাররা জানান, কিডনিতে পাথর হয়েছে। অপারেশন লাগবে। শুনে প্রথমে খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। কিন্তু ভাবিনি এত সহজে পাথর বের করে ফেলবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ধরনের অপারেশন আগে বিএমইউতে খুবই কম হতো। এখন প্রতি সপ্তাহেই হচ্ছে। এই অপারেশন অনেকেই করতে চান না। কারণ এ ধরনের অপারেশনে অনেক সময় ও ধৈর্য লাগে।  

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (আইএইচএমই)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১২.৯ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, দেশে প্রতি বছর কিডনি-সম্পর্কিত অসুস্থতায় প্রায় ১৭ হাজার মানুষ মারা যান।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় আরও জানা গেছে, হৃদরোগের পর বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় প্রধান কারণ কিডনি রোগ। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়াদের মধ্যে ২৯.৮% হৃদরোগের জন্য এবং ১৭.৩% কিডনি-সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত