ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এক কথিত প্রেমিকাকে বিদায়কালীন মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিল উয়েফা। চাঞ্চল্যকর এই খবর প্রকাশ করেছে লন্ডনের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা।
সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের ইতি টানার পর ওই নারী ছয় অঙ্কের (কমপক্ষে লাখ ইউরো) বিদায়ী ভাতা পান।
অভিযোগ রয়েছে, সম্পর্কের সময়ে ইনফান্তিনো তাকে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। এরপর তিনি সংস্থাটি ছাড়ার পর একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ পড়ার সম্পূর্ণ খরচও বহন করেছিল ইউরোপীয় ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে উয়েফা অর্থপ্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, ইনফান্তিনোর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের অভিযোগ সম্পর্কে তারা জানতো। সংস্থাটি আরও জানায়, এরপর থেকে তারা একজন "আধুনিক ও হাই-প্রোফাইল প্রতিষ্ঠানের মতো" তাদের নিয়মকানুন "আরও কঠোর" করেছে।
টেলিগ্রাফের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফার সিনিয়র কর্মকর্তাদের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসার পর উয়েফা এই স্বীকারোক্তি দিল। এ ঘটনা ফিফা সভাপতি হিসেবে তার বহাল থাকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দেবে।
ইনফান্তিনো ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেন এবং ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রধান হওয়ার আগে সেখানে ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়েই তিনি লেবানিজ ফুটবল অ্যাসেসিয়েশনের কর্মকর্তা লিনা আল আসকরকে বিয়ে করেন ইনফান্তিনো। চার সন্তানের জনক ফিফা সভাপতি উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালিনই তার এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে নতুন প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে।
টেলিগ্রাফ এমন কয়েকজন সহকর্মী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছে, যারা অভিযোগ করেছেন যে ইনফান্তিনো নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন যেন ওই নারী কমপক্ষে ছয় অঙ্কের বিদায়ী ভাতা পেয়ে চাকরি ছাড়েন।
শুক্রবার রাতে ফিফার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে কখনোই কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
উয়েফার অর্থ অপব্যবহারের এই ঘটনাটি ঘটেছিল ইনফান্তিনো সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে। ওই নারী সম্পর্ক শুরুর সময় একটি সাধারণ প্রশাসনিক পদে ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাকে আরও লাভজনক ব্যবস্থাপকীয় পদে উন্নীত করা হয়। তৎকালীন উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি ইনফান্তিনোকে এই সম্পর্কের বিষয়ে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করেছিলেন এবং পারস্পরিক সম্মতিতে ওই নারীকে মোটা অঙ্কের ভাতার বিনিময়ে উয়েফা ছাড়তে বলা হয়।
ওই নারী যখন চাকরি ছাড়েন, তখন ইনফান্তিনো তার যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে একই ধরনের একটি লাভজনক নতুন চাকরির ব্যবস্থাও করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইনফান্তিনো তার কথিত প্রেমিকাকে পদোন্নতি দিয়ে তার বেতন ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ১,৬০,০০০ সুইস ফ্রাঙ্ক (প্রায় ১,৪৭,০০০ পাউন্ড) করেছিলেন বলে জানা গেছে।তার এই দ্রুত পদোন্নতি সহকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল এবং আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে তিনি হয়তো নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।
উয়েফার ভেতরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে: "তিনি অনেক বড় একটা ভুল করেছিলেন এবং এটি প্রায় তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছিল। উয়েফার ভেতরের অনেকেই প্লাতিনিকে বলছিলেন, 'আপনার তাকে বরখাস্ত করা উচিত'।" প্লাতিনি জিয়ান্নিকে তখন চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, 'সে থাকবে নাকি তুমি?' জিয়ান্নি বলেছিলেন, 'সে চলে যাবে', এবং শেষ পর্যন্ত সে চলে যায়।"
ইনফান্তিনোর অস্বীকার
ফিফার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো "এই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছেন" এবং এগুলোকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা" বলে বর্ণনা করেছেন। মুখপাত্র আরও বলেন, "অনুচিত আচরণ বা সংবিধি ও নিয়ম লঙ্ঘনের যেকোনো ইঙ্গিত মানহানিকর।"