দিল্লি ছেড়ে নিজের শেকড় উত্তরাখণ্ডে ফেরার আকুতি নিয়ে এবার এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন পথ বেছে নিলেন ভারতের তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার রিশাভ পান্ত। শ্রীলঙ্কা সফরে জাতীয় দলের সাথে থাকা অবস্থায় শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সরাসরি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে ট্যাগ করে জমি কেনায় সহায়তার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
নিজ রাজ্যে নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়তে গত তিন বছর ধরে হাড়ভাঙা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন এই তারকা ক্রিকেটার।
উত্তরাখণ্ডের রুরকির সন্তান পান্ত কৈশোরে পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়ার তাগিদে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘদিন পর নিজের পাহাড়ি শেকড়ে ফিরে আসার তীব্র তাড়না অনুভব করছেন তিনি। রাজ্যের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করদাতা হওয়া সত্ত্বেও জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের হতাশা ঢাকেননি তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যাগ করে সেই পোস্টে পান্ত লিখেন, ‘হ্যালো স্যার, কেমন আছেন? উত্তরাখণ্ডের একজন স্থানীয় হিসেবে বলছি, দিল্লি থেকে আমার থিতু হওয়ার জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে জমি কেনার চেষ্টা করছি, কিন্তু এখানে থাকার মতো সুবিধাজনক ও বড় কোনো সম্পত্তি খুঁজে পাচ্ছি না। আমি আমার উত্তরাখণ্ডকে ভীষণ ভালোবাসি।’
নিজ রাজ্যে ফিরে উত্তরাখণ্ডের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সেই পোস্টে তিনি আরও লিখেন, ‘আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি একটু দেখুন। কারণ বর্তমানে এটি একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। আগে রাজ্যকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সময় যে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা আলোচনা হয়েছিল, সেটিও ঝুলে আছে। সব কিছু পাশ কাটিয়ে আমি আমার নিজ রাজ্যে ফিরে আসতে চাই, উত্তরাখণ্ডের মানুষের পাশে থেকে কিছু করতে চাই। আমার পাহাড়ি মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি দয়া করে একটু দেখবেন, বিগত তিন বছর ধরে আমি কোনো জমি পাইনি। আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।’
পান্তের এই পোস্টের পর প্রকাশ্য টুইটের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন হয়তো তিনি ফ্রিতে বা অনুদান হিসেবে জমি চাচ্ছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে নিজের সেই পোস্টের কমেন্টে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, তিনি কোনো অনুদান চান না, বরং সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই জমি কিনতে চান। সেই বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুবাদে একটি উপহার পেলে তা দারুণ হতো। তবে আপনি যদি অনুমতি দেন, আমি সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই জমি কিনতে চাই, অন্তত আমি আমার নিজের রাজ্যে আমার প্রথম বাড়িটি তো তৈরি করতে পারব। আমাদের রাজ্য এক্ষেত্রে একটু সাহায্য করুন। সত্যি বলতে আমি বুঝতে পারছি না এটি কীভাবে করব।’
খেলার মাঠে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও বড় অবদান রেখে চলেছেন এই তারকা ব্যাটার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উত্তরাখণ্ডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন পান্ত, এ সময় তিনি কেবল আয়কর বাবদই ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ভারতীয় রুপি প্রদান করেছেন। রাজ্যটির প্রধান আয়কর কমিশনার গত ২৪ জুলাই আয়কর দিবসের অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাজ্যের শীর্ষ করদাতার মুকুট মাথায় তোলা এই তারকার এমন প্রকাশ্য আবেদন বুঝিয়ে দেয়, তারকাখ্যাতি থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কতটা বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে।
মাঠের উত্তেজনাকর লড়াই কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, দিনশেষে নিজের শেকড় আর আপন মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার টানই যে সবার ওপরে, পান্তের এই ব্যতিক্রমী আবেদন সেটাই আবারও প্রমাণ করল।
৫৪ রানেই অলআউট বাংলাদেশ, হারল ইনিংস ও ৩৮ রানের ব্যবধানে