পে স্কেল নিয়ে বড় সুখবর, ফাইল উঠছে মন্ত্রিসভায়

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি মাসের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এর আর্থিক প্রভাব। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে সরকার পুরোপুরি পিছিয়ে না গিয়ে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর আর নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতিবছর নির্ধারিত হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।

পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশাও বাড়ছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উঠবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে-এখন এসব সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।