প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রস্তুতি সম্পন্ন

বাঁশখালীর উন্নয়নে একগুচ্ছ দাবি স্থানীয়দের

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাঁশখালী আগমনকে কেন্দ্র্র করে করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বিশেষ করে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ স্থল ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজর দারীসহ আইনশৃংখলা বাহিনী লক্ষ্য করে গেছে।

বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বাহারছড়ার সমুদ্রসৈকত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান শামীম,দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সাবেক পৌরসভার মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ স্থলে নিরাপত্তা নিয়োজিত এসএসএফ,সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী, পুলিশ বাহিনী,জেলা ও বাঁশখালী প্রশাসন, বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলেন।

এদিকে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় হেলিপ্যাড এবং সমাবেশের বিশাল মঞ্চ পরিদর্শন কালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রতিবছর বাঁশখালীবাসীকে যাতে আর বন্যা মোকাবেলা করতে না হয় সেজন্য বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব বিলোপের পথে। যার ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেই দুই কুল ছাপিয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। এজন্য খালগুলো খনন ও পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ সৃষ্টি করা হবে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নেমে যেতে পারে। পাহাড়ের ঢল যাতে মানুষের বসতবাড়ি না ঢোকে, সেজন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।

এদিকে ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাঁশখালী আগমন করেন এবং সে সময় চট্টগ্রামের বাঁশখালী বাসীর যোগাযোগের অন্যতম শংখনদীর তৈলারদ্বীপ সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এবার তাঁরই সন্তান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৯ আগষ্ট রবিবার এ এলাকায় আসছেন। এদিন বেলা ১২টার দিকে দুর্যোগ পরবর্তী বাঁশখালী বাসীর উন্নয়নে ভূমিকাসহ সাধারন জনগণের মতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের প্রধান প্রধান দাবি তুলে ধরা হবে।

এসব দাবির মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পুরো উপকূলজুড়ে ‘মেরিন ড্রাইভ’ সড়ক বাস্তবায়ন করা।

এছাড়া বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এবং এলাকার অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা,জলকদর খালকে সংস্কার পুর্বক কৃষিখাত অগ্রসর করা, বাঁশখালীতে উৎপাদিত এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩২০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুতের প্রেক্ষিতে বাঁশখালীবাসীর জন্য শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শংখনদীর তৈলারদ্বীপ সেতু টোলমুক্ত করার দাবিও গুলো সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের ব্যাপারে বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী বলেন, দীর্ঘদিন পর দল ক্ষমতায় এবং দলীয় প্রধানের বাঁশখালী সফরকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বাঁশখালীর জনগণ বিএনপির প্রতি শতভাগ আন্তরিক তা সমাবেশের দিন উপস্থিতির মাধ্যমে প্রমাণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন,  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাঁশখালীতে আগমনকে ঘিরে দলীয় ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন,সঠিক নেতৃত্বের অভাবে অবহেলিত বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা প্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পুরো উপকূলজুড়ে 'মেরিন ড্রাইভ' সড়ক বাস্তবায়ন, বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এবং এলাকার অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সৈকত ও বাঁশখালী ইকোপার্ককে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি রাখা হবে বলে তিনি জানান।

আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মনেও নানা প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি আশা করছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং বাঁশখালীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট ঘোষণার আশা করছেন সর্বস্তরের জনগণ।