চবির সিনেট সভায় বাজেট অনুমোদন, কোন খাতে কত বরাদ্দ!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিনেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৫০৩ কোটি ৪৭ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 
 
শনিবার (৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কক্ষে সকাল ১১টায় শুরু হয় সিনেট অধিবেশন। 
 
বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিনেট সভাপতি ও চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। সিনেটে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাছান মিয়া। পদাধিকার বলে সিনেট অধিবেশনে সিনেটর উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম। এছাড়া সিনেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্যাটাগরির সিনেট সদস্যবৃন্দ। সিনেট অধিবেশনে অংশ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত সদস্যরা। 
 
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ৩৮কোটি টাকা। কেবল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফর্ম বিক্রি করে আয় করেছে ২০ কোটি ৯৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে বরাদ্দ পেয়েছে ৪৬৫কোটি ৪৭লাখ ৩৭হাজার টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সর্বমোট ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার বাজেট পেয়েছে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক সংখ্যা ৮২২ জন এবং শিক্ষাছুটিতে আছে আরও ১৩৬ জন। এছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৮ জন। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মূল বেতন ভাতা বাবদ বাজেট ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং কর্মচারীদের মূল বেতন ৪২ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোট মূল বেতন বাবদ ১৫৯ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। পেনশন স্কিম বাবদ বাজেট দেওয়া হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। 
 
গবেষণা খাতে কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। সেটা ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বরাদ্দের অধীনে রেখে দেওয়া হয়েছে। গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় চাহিদা ছিল ২৬ কোটি ৮০ কোটি টাকা। 
 
২০২৬-২৭ অর্থবছরে কেবল শিক্ষকদের মূল বেতন বাবদ বাজেট ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। কেবল কর্মকর্তাদের মূল বেতন বাবদ ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কর্মচারীদের ৪২ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতন ও বিভিন্ন ভাতা সহকারে সর্বমোট বাজেট ২৯৩ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত বাস ভাড়া বাবদ বাজেট ১ কোটি টাকা এবং শাটল ট্রেনের ভাড়া বাবদ বাজেট ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রতি মাসে শাটল ট্রেনের ভাড়া ১১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। 
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে পরিচালিত বিভিন্ন মামলা ও আইনি সহায়তার ব্যয়ের বাজেট ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ বাবদ বাজেট ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। পানি বিল বাবদ ৫ লাখ টাকা এবং কুরিয়ার খরচ ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইফাই খরচ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন খরচ বাবদ ৩৫ লাখ টাকা, ডাক ও টেলিফোন বাবদ ৩৩ লাখ টাকা, আবাসিক ভবন বা অতিথি ভবন ভাড়া বাবদ বাজেট ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ টাকা। 
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে যোগাদানের উদ্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা বাবদ ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় যানবাহনের জ্বালানি খরচ বাবদ বাজেট ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী খাতে ব্যয়ের বাজেট ধরা হয়েছে ৮০ লাখ টাকা। সমাবর্তন আয়োজনের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও এ হাতে কোন বাজেট দেওয়া হয়নি।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যুভিনির তৈরিতে বাজেট ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। মোট আবাসিক হল ও ভবন মেরামতে ৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অনাবাসিক ভবন মেরামত বাবদ বাজেট ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। 
 
টেলিযোগাযোগ খাতে বাজেট হয়েছে ১২ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট চিকিৎসা ব্যয় বাবদ বাজেট ধরা হয়েছে সর্বমোট ৭৫ লাখ টাকা। এতে চিকিৎসা খরচ ২০ লাখ টাকা, ঔষধপত্র ক্রয়ের খররচ ৪০ লাখ এবং হাসপাতালে ব্যয়ের খরচ ১৫ লাখ টাকা। মেধাবৃত্তি প্রদানে ব্যয়ের খাত ধরা হয়েছে ১কোটি ২৫ লাখ টাকা। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি বাবদ ১কোটি টাকা, হলের বৈদ্যুতিক বাল্ব ত্রয় বাবদ ১২ লাখ টাকা এবং হলে বাসন-কোসন বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা।