শিক্ষা ও গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
তিনি বলেন, বর্তমান দুনিয়ায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার কোনোভাবেই বন্ধ করা যায় না। বরং আরো ভালো করে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সেটি বিবেচনা করা উচিত। যেমন সমুদ্র গবেষণা, মেডিবকেল, ট্রাফিক, জলবায়ু থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই ভালো সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণায় এআইর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘এআই নেভিগেটর (অটাম ইনটেক ২০২৬)’ শীর্ষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্র্যাকটিক্যাল লার্নিং ও প্রজেক্ট-ভিত্তিক কর্মশালার সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বিষয় উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশ বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনার বিষয় নয়; বরং সমগ্র বিশ্বের শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন ও প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। উন্নত বিশ্বে এআইর ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে এআই।
তিনি বলেন, এআইর ব্যবহার বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকরা কীভাবে দায়িত্বশীল ও নৈতিক উপায়ে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে অ্যাসাইনমেন্ট, থিসিস, গবেষণাপত্র প্রস্তুতসহ বিভিন্ন একাডেমিক কাজে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এআই টুল যুক্ত হচ্ছে। এআই ব্যবহারের সীমা, নৈতিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উপাচার্য বলেন,এআই নিয়ে গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় এবং নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ এখন অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে নিরাপদ, কার্যকর ও দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা পরিচালনা করতে পারে এবং সরকারের কাছে কার্যকর সুপারিশ উপস্থাপন করতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এ ধরনের সময়োপযোগী আয়োজন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা ‘সেন্ড আ লিটল হোপ (যুক্তরাজ্য)’এর যৌথ উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিনে সভাপত্বিতে ও আই ন্যাভিগেটর অ্যান্ড এআই কনফিডেন্সের কম্যুনিকেশন অফিসার সুপ্রভা ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর ও ‘সেন্ড এ লিটেল হোপ’র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মুজাহিদুল ইসলাম।
