চবির সিনেট অধিবেশন আজ, কীভাবে পরিচালিত হয় সিনেট!

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

দীর্ঘ তিন বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশন। অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার প্রাক্কলিত রাজস্ব বাজেট এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ৪৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকার সংশোধিত রাজস্ব বাজেট উপস্থাপন করা হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যদ হিসেবে ৩৫ বার সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে, গানিতিক হিসাবে পড়ে প্রতি দেড় বছরে একবার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৭৩ অনুযায়ী ১২ ক্যাটাগরিতে ১০২ সদস্যের সিনেট কার্যকর থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়া, নির্বাচিত বা মনোনীত সদস্যদের মৃত্যু ও অবসরসহ বিভিন্ন কারণে কমেছে সিনেটরদের তালিকা। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই ৩৫তম সিনেট অধিবেশনের পর প্রায় তিন বছর আর কোনো সিনেট সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ আইন ১৯৭৩-এর ২৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্ধারিত তারিখে সিনেট বছরে অন্তত একবার সভা মিলিত হবে এবং এবং সে সভা সিনেটের বার্ষিক সভা হিসেবে গণ্য হবে।

সিনেটের কাজ কী:

বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট তিনটি ক্ষেত্রে সিনেটের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। ১৯৭৩-এর আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী সিনেটের এই দায়িত্ব ও ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। ২৪ ধারার (ক) এ বলা হয়েছে, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে সিনেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্ষদ সিন্ডিকেটের প্রস্তাবক্রমে সংবিধিগুলোকে সংশোধন এবং অনুমোদন করবে। একই ধারার (খ) এ বলা হয়েছে, সিন্ডিকেট কর্তৃক উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাব-নিকাশ এবং আর্থিক প্রাক্কলন বিবেচনা ও অনুমোদন করবে এবং (গ) এ বলা হয়েছে, এই আইন ও সংবিধি অনুসারে (সিনেট) এর উপর অর্পিত ও আরোপিত অন্য যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী আজ ৮ আগস্ট সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ৩৬তম সিনেট অধিবেশন আহ্বান করেন। 

সিনেটের কার্য পরিচালনা বিধিতে কী আছে:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অধিবেশন পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা ‘সিনেট কার্য পরিচালনা বিধি’। এতে বলা হয়েছে, প্রতিবছর সিনেটের দুই ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হবে: ১. বার্ষিক সিনেট সভা, ২. বিশেষ সিনেট সভা। চবি উপাচার্যের নির্ধারিত তারিখে প্রতি বছর একবার সিনেটের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

সিনেট অধিবেশনে সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী অর্থ বছরের বাজেট বিবেচনার জন্য সিনেটের বার্ষিক সভায় পেশ করবেন। সিনেটের বার্ষিক সভার প্রতিটি অধিবেশন অনূর্ধ্ব চার ঘন্টায় সমাপ্ত হবে। এই সভার সময়সীমা অনুরূপ ৮টি অধিবেশনের অর্ধিক বর্ধিত করা যাবে না। বার্ষিক সিনেট সভা ছাড়া সিনেটের অন্যান্য সভা বিশেষ সভা হিসেবে গণ্য হবে। উপাচার্য চাইলে যেকোনো সময় এমন বিশেষ সভা আয়োজন করতে পারবেন। সিনেট অধিবেশনে চবি উপাচার্য সভাপতিত্ব করেন এবং সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার। 

সিনেটে আলোচ্যসূচির বিষয়াদি আলোচনার পরই কেবল আলোচ্য সূচির বহির্ভূত বিষয় উত্থাপিত হতে পারবে। তবে অনুরূপ একক স্থান অনুপস্থিত সদস্যদের অন্তত দুই তৃতীয়াংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে।

সিনেটের বার্ষিক সাধারণ বিজ্ঞপ্তির সভার নির্ধারিত তারিখের অন্তত ৩০ দিন পূর্বে এবং বিশেষ সভার বিজ্ঞপ্তি নির্ধারিত তারিখের অন্তত ১৫ দিন পূর্বে লিখিতভাবে সদস্যদের নিকট পাঠাতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তির ১০ দিনের মধ্যে তার আলোচ্য সূচী ও আলোচনা সূচীর সম্পূর্ণ সম্পর্কিত অপরাপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলিল পাঠাতে হবে। যদি কোন সভা ১০ দিনের বেশী সময়ের জন্য মুলতবী ঘোষণা করা হয় তাহলে সেই মুলতবী সভার জন্য সদস্যকে অন্তত ৭ দিনের লিখিত বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে।

এছাড়া বেশকিছু বিষয় আছে যেগুলো ছাড়া ব্যতিরেকে অন্য প্রস্তাবই প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া সিনেটে সভায় পেশ করা যাবে না। এগুলো হলো: ১। বিতর্ক মুলতবীকরণ; ২। সভা মুলতবীকরণ; ৩। সন্ধ্যা সমাপ্তিকরণ; ৪। আলোচ্যসূচীর ক্রম পরিবর্তন; ৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট কোন বিষয় প্রেরণ; ৬। পরবর্তী আলোচনার বিবেচনা; ৭। কোন কমিটি নিয়োগকরণ; ৮। সিনেট সভাকে কমিটিতে পরিবর্তনকরণ; ৯। কোন বিষয় ভোটে দেয়ার প্রস্তাবকরণ; ৯। সিনেটের বার্ষিক সভায় কোন প্রস্তাব পেশ করতে হলে তার বিজ্ঞপ্তি সভার নির্ধারিত তারিখের অন্তত ৭ দিন পূর্বে সচিবের নিকট পৌঁছাতে হবে।

সিনেট অধিবেশন পরিচালনা বিধিতে বলা হয়েছে, সিনেটের বার্ষিক সভায় কোন প্রস্তাব পেশ করার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলে তা প্রত্যাহর তা সংশোধন বা প্রত্যাহার করতে ইচ্ছুক হলে উক্ত মর্মে তাকে অন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তি বার্ষিক সভার অন্তত দুই দিন পূর্বে সচিবের নিকট পৌঁছাতে হবে। সিনেটের বিশেষ সভায় কোন প্রস্তাব পেশ করতে হলে তার বিজ্ঞপ্তি সভার নির্ধারিত তারিখের অন্তত ৭ দিন পূর্বে সচিবের নিকট পৌঁছাতে হবে। সিনেটের বিশেষ সভার নোটিশ প্রদান করার বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর প্রস্তাবক তা সংশোধন বা প্রত্যাহার করতে ইচ্ছুক হলে উক্ত মর্মে তাকে আর একটি বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তি বিশেষ সভার অন্তত দুই দিন পূর্বে সচিবের নিকট পৌঁছাতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত